বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র‑পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজন করা ইফতার অনুষ্ঠানে সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপক প্রভাব ও রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মন্ত্রীর মতে, সিলেটের সড়ক, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন কোনো এক দল বা ব্যক্তির স্বার্থে সীমাবদ্ধ নয়; পুরো শহরের বাসিন্দা এই সুবিধা থেকে উপকৃত হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে সমন্বিতভাবে কাজ করা দরকার।
ইফতারের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি সিলেট‑ঢাকা মহাসড়ক সংস্কার এবং নগরের পানির সমস্যার সমাধানকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগের ফলাফল একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমগ্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিবিধি উন্নত করবে, এটাই তার মূল বার্তা।
মুক্তাদির আরও জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সিলেটের জন্য ঘোষিত সব পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান উন্নয়ন সূচকগুলোও জনগণের সামনে প্রকাশ পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজকে তিনি “চ্যালেঞ্জিং” বলে বর্ণনা করেন, বিশেষ করে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। মন্ত্রীর মতে, খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত সন্তোষজনক স্তরে রয়েছে এবং আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
বাজারের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মন্ত্রীর দপ্তর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত মনিটরিং ও দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, পাশাপাশি বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মিফতাহ সিদ্দিকী এবং জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে সিলেটের উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা মন্ত্রীর আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে উন্নয়নমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন, সিলেটের জনসাধারণের স্বার্থে সকল দলকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইফতার শেষে উপস্থিত সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় স্থানীয় খাবার, যেখানে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ ভাত ও মিষ্টি পিঠা পরিবেশন করা হয়। এই সাংস্কৃতিক বিনিময়কে তিনি সিলেটের ঐক্যবদ্ধ চেতনার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি এবং শিল্প পার্কের স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। মন্ত্রীর মতে, এই সব উদ্যোগের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির টেকসই বৃদ্ধি।
মুক্তাদির উল্লেখ করেন, সরকার ইতিমধ্যে সিলেটের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন সহায়তা প্যাকেজ চালু করেছে, যা স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। এছাড়া, বস্ত্র ও পাট শিল্পের আধুনিকীকরণে নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
ইফতার অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে মন্ত্রীর শেষ কথা ছিল, “সিলেটের উন্নয়ন আমাদের সকলের দায়িত্ব; রাজনৈতিক পার্থক্যকে পেছনে রেখে একসঙ্গে কাজ করলেই আমরা সত্যিকারের অগ্রগতি অর্জন করতে পারব”। এই বার্তা সিলেটের নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।



