যশোরের চৌগাছা উপজেলার আফরা এলাকায় শনিবার বিকেলে দুইটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে চৌগাছা পৌরসভার কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানের মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া ও রঘুনাশপুরের তিনজন বাসিন্দা গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
শাহিনুর রহমান, যিনি চৌগাছা পৌরসভার চাচাশ্বশুর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে নিজের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় জড়িয়ে যান। তিনি শনিবার বিকালে আফরা এলাকায় পৌঁছানোর সময় বিপরীতমুখী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
ধাক্কা ঘটার মুহূর্তে দুইটি গাড়ি একে অপরের বিপরীতে চলছিল, ফলে উভয় গাড়ির চালক ও যাত্রীদের ওপর প্রভাব পড়ে। শাহিনুর রহমানের গাড়ি সরাসরি ধাক্কা খেয়ে ভেঙে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
অন্য গাড়িতে যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া এলাকার ৪০ বছর বয়সী হাসান, রাহুল (২০) এবং রঘুনাশপুরের তুহিন (৩৫) ছিলেন। ধাক্কা তাদের গাড়ি ভেঙে দেয় এবং তিনজনই গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তপাত ও হাড় ভাঙার শঙ্কা দেখা দেয়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করেন। তারা আহতদের নিরাপদে স্থানান্তর করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসা চালু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনজনই গুরুতর আঘাতের কারণে তীব্র পর্যবেক্ষণ ও শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন।
চৌগাছা থানা থেকে ওয়ানডি অফিসার রেজাউল করিম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গাড়ি চালকদের গতি, রোডের অবস্থা ও ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তদন্তের অধীনে রয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশের মতে, দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য গাড়ির ড্রাইভারদের বিবৃতি নেওয়া হয়েছে এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, রোডের সিগন্যাল ও রোডের অবস্থা যাচাই করা হবে। এছাড়া, গাড়ির ড্যাশক্যাম রেকর্ড এবং মোবাইল ফোনের জিপিএস ডেটা সংগ্রহের কাজ চলছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে রোড সেফটি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে রিকর্ডে থাকা ট্রাফিক লঙ্ঘনের ইতিহাস, গতি সীমা অতিক্রমের প্রমাণ এবং দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে রাস্তায় স্বাভাবিক গতি পুনরুদ্ধার করেছে। তবে রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো ও সিগন্যালের অভাবের কারণে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনা নিয়ে শোক প্রকাশ করে এবং মৃত কর্মকর্তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে। তারা রাস্তায় গতি কমিয়ে চলা, হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত চলাকালে স্থানীয় মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি কোনো গাড়ি চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে থাকেন, তবে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ধরনের দু-দুই চাকার গাড়ির সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা ও সপ্তাহান্তে গাড়ি চালকদের গতি বাড়িয়ে চলার প্রবণতা রাস্তায় ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অধিকাংশ ট্রাফিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, রোডের অবস্থা, হেলমেটের ব্যবহার, গতি সীমা মেনে চলা এবং রোড সাইনেজের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে রোডের আলোকসজ্জা বাড়ানো, সিগন্যাল স্থাপন এবং ট্রাফিক নিয়মের কঠোর প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।
দুর্ঘটনা ঘটার পর চৌগাছা পৌরসভার কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করে এবং মৃতের পরিবারকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি জানান। একই সঙ্গে, পৌরসভার কর্মচারীদের জন্য রোড সেফটি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত শেষ হয়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের হলে, সংশ্লিষ্ট গাড়ি চালকদের আদালতে হাজির হতে হবে। আদালত মামলার প্রমাণ, গাড়ির গতি, গাড়ি চালকের আচরণ এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ অবস্থা বিবেচনা করে রায় দেবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ রোড সেফটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্ট শেয়ার করছে এবং গতি কমিয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, চৌগাছা উপজেলার আফরা এলাকায় দুইটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে রোড সেফটি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



