নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই দিনটি দেশের ভোটার তালিকাভুক্তি ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে বার্ষিকভাবে পালিত হয়। ইসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একত্রে এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতির অবস্থা জানিয়েছেন।
ক্যাবিনেট বিভাগ এই দিবসের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে এবং ইসির সঙ্গে সমন্বয় করে ২ মার্চকে চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে অনুষ্ঠানসূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য আগামীকাল অথবা পরের দিন প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সেক্রেটারি আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, জাতীয় ভোটার দিবসকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে এবং এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পূর্বের বছরগুলোর মতোই এই বছরও ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও নতুন ভোটারদের নিবন্ধনকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তুতি পর্যায়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্র, সিভিল সোসাইটি সংস্থা এবং মিডিয়া পার্টনারদের সহায়তায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে। এছাড়া, নতুন ভোটারদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানও নির্ধারিত হয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১,২৭,৭১১,৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৪,৮২৫,৩৬১, নারী ভোটার ৬২,৮৮৫,২০০ এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার ১,২৩২ জন অন্তর্ভুক্ত।
পুরুষ ও নারী ভোটারদের সংখ্যা প্রায় সমান হলেও, পুরুষ ভোটার সামান্য বেশি। ট্রান্সজেন্ডার ভোটারদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে ইসির নীতি অনুযায়ী সকল নাগরিকের ভোটাধিকার সমানভাবে স্বীকৃত। এই পরিসংখ্যান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিস্তৃতি ও সমতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
এই সংখ্যাগুলি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মজবুত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ভোটার তালিকায় নতুন যোগদানকারী তরুণ ও গ্রামীণ ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিপক্ষের কিছু নেতা ও রাজনৈতিক দলও জাতীয় ভোটার দিবসের গুরুত্ব স্বীকার করে ভোটার সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, ভোটার নিবন্ধন ও শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানগুলোকে আরও ব্যাপক করে তোলা উচিত যাতে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।
এই উদ্যোগের রাজনৈতিক প্রভাবও অনস্বীকার্য। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন ভোটার তালিকায় নতুন যোগদানকারী ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়লে নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বশীলতা শক্তিশালী হবে। ইসির পরিকল্পিত কার্যক্রমগুলো এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান, ভোটার সচেতনতা কর্মশালা এবং মিডিয়া ক্যাম্পেইন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের গণতান্ত্রিক দায়িত্বের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হবে।
জাতীয় ভোটার দিবসের মাধ্যমে দেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যই ইসির মূল উদ্দেশ্য। এই দিনটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।



