কান্নাডা‑ইংরেজি দ্বিভাষিক চলচ্চিত্র ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রাউন আপস’ এর নির্মাতা সম্প্রতি একটি নতুন পোস্টার উন্মোচন করেছেন, যেখানে নায়ক যশের মুখ পরিষ্কার এবং চুল ছাড়া, চরিত্রের নাম ‘টিকিট’। এই পোস্টারটি ছবির প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করেছে। পোস্টারটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
পূর্বে প্রকাশিত পোস্টারে যশকে রায়া নামের দাড়ি-যুক্ত চরিত্রে দেখা যায়, যা নেটজগতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল। রায়ার চিত্রটি শক্তিশালী এবং রুক্ষ স্বভাবের, যা ভক্তদের মধ্যে ফ্যান আর্ট ও রিল তৈরিতে অনুপ্রেরণা জোগায়। নতুন ‘টিকিট’ চিত্রটি তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল এবং সূক্ষ্ম, যা গল্পের ভিন্ন দিকের ইঙ্গিত দেয়।
দুটি ভিন্ন চেহারার উপস্থিতি থেকে কিছু বিশ্লেষক অনুমান করছেন যে যশ একাধিক চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দ্বৈত চিত্রটি চলচ্চিত্রের কাহিনীতে জটিলতা যোগ করতে পারে। দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে গুজব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠেছে।
চলচ্চিত্রের টিজারটি প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৯৭ মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে রেকর্ড ভাঙে। মোট দৈর্ঘ্য এক মিনিট ছয়ষট্টি সেকেন্ড, এবং এটি ইউটিউবে নয়টি দেশসহ ভারতেও ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে আসে। এই বিশাল ভিউ সংখ্যা ছবির আন্তর্জাতিক আকর্ষণকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
টিজারটি বিশেষভাবে শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার তামিল-ভাষী বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, পাশাপাশি ওমান, সৌদি আরব, কুয়েত, বাংলাদেশ এবং বাহরাইনের হিন্দি-ভাষী দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও টিজারটি ব্যাপকভাবে শেয়ার ও আলোচনা হয়েছে। এই বিস্তৃত ভৌগোলিক পৌঁছানো ছবির বহুভাষিক প্রকৃতিকে আরও দৃঢ় করে।
দর্শকরা টিজারের প্রতিটি ফ্রেম বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সময়রেখা ও চরিত্রের সংযোগ নিয়ে তত্ত্ব গড়ে তুলছে। শেষের দৃশ্যগুলো বিশেষভাবে বিভিন্ন ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে, যা কাহিনীর বৃহত্তর গঠন সম্পর্কে কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে এই বিশ্লেষণগুলো চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
‘টক্সিক’ চলচ্চিত্রটি একাধিক ভাষায় একসাথে শুট করা হয়েছে, মূলত কান্নাডা ও ইংরেজিতে, এবং হিন্দি, তেলেগু, তামিল ও মালয়ালাম ভাষায় ডাব করা হবে। এই বহুভাষিক কৌশলটি বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকদের জন্য সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে। ফলে ছবিটি একাধিক বাজারে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রের রচনায় যশ এবং গীতা মোহনদাসের নাম যুক্ত, এবং পরিচালনা দায়িত্ব গীতা মোহনদাসের হাতে। উভয়ই পূর্বে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জনকারী কাজের সঙ্গে পরিচিত, যা ছবির গুণগত মানের প্রতি আস্থা জাগায়। এই সৃজনশীল জোড়া ছবির কাহিনীতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
প্রযোজনা দায়িত্ব ভেঙ্কট কে. নারায়ণ এবং যশেরই, যারা কেভিএন প্রোডাকশনস এবং মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের মাধ্যমে প্রকল্পটি চালু করেছেন। উভয় প্রযোজনা সংস্থা পূর্বে সফল বহু চলচ্চিত্রের পেছনে ছিল, যা ‘টক্সিক’কে আর্থিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে। ছবির বাজেট ও বাজার পরিকল্পনা যথাযথভাবে গঠন করা হয়েছে।
‘টক্সিক’ মার্চ ২০২৬-এ বড় পর্দায় প্রকাশিত হবে, এবং একই সময়ে বিভিন্ন ভাষায় একসাথে মুক্তি পাবে। মুক্তির আগে ইতিমধ্যে প্রচারমূলক উপকরণগুলো দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চলচ্চিত্রের এই ব্যাপক প্রচারাভিযানটি শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রবণতাকে নির্দেশ করে।
বিনোদন জগতে এই ধরনের বহুভাষিক ও দ্বৈত চরিত্রের ব্যবহার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, যা অন্যান্য নির্মাতাদের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করবে। দর্শকরা এখন এই চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা নিয়ে উচ্ছ্বসিত, এবং পর্দায় কী ধরনের চমক অপেক্ষা করছে তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, যশের ‘টিকিট’ চেহারা এবং টিজারের বিশাল সাফল্য ‘টক্সিক’কে এই বছরের সবচেয়ে প্রত্যাশিত চলচ্চিত্রগুলোর একটি করে তুলেছে। চলচ্চিত্রের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এটি বক্স অফিসে কী রকম পারফরম্যান্স দেখাবে, তা সময়ই বলবে।



