চট্টগ্রাম শহরের খোলশি থানা অধীনে এক জমি ব্যবসায়ীকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে না পারলে হুমকি ও শারীরিক হিংসা করা হয়, এরপর অপরাধী আহমেদ কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মোহাম্মদ সিরাজ, যিনি জমি বিক্রির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন, বুধবার রাতের দিকে তার বাসার সামনে হঠাৎ চার-পাঁচজনের একটি দল দ্বারা আটকে রাখা হয়। দলটি চাঁদা না দিলে গুলি, কিল-ঘুষি এবং মারধর করার হুমকি দেয়। সিরাজ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে, হিংসাকারীরা তাকে কাঁধে কাঁধে ধাক্কা দিয়ে গুলি ও কিল দিয়ে আঘাত করে।
সিরাজের মতে, তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জমি বিক্রয়ের মধ্যস্থতা করে কমিশন পান এবং প্রায় তিন-চার মাস আগে আহমেদ কবিরের সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচয়ের পর থেকে কবির ধারাবাহিকভাবে টাকা দাবি করে আসছিলেন, এবং সাম্প্রতিক সময়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি জানিয়েছেন।
বিক্রয় কেন্দ্রের কাছাকাছি বাজারে যাওয়ার জন্য সিরাজ যখন বাড়ি থেকে নামলেন, তখনই কবিরের নেতৃত্বে থাকা দলটি তার গেটের সামনে থেমে চাঁদা দাবি করে। সিরাজ চাঁদা না দিলে, দলটি তাকে গুলি, কিল এবং দণ্ডে আঘাত করতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা হস্তক্ষেপ করে, হিংসাকারীরা হুমকি দিয়ে সরে যায়।
আঘাতের পর সিরাজ স্থানীয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং পরের দিন (শুক্রবার) খোলশি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। থানা উপপরিদর্শক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, কবির সিরাজের বাড়ির নিচে গিয়ে হঠাৎ হামলা চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
খোলশি থানা ওয়ানডারফুল অফিসার মো. জাহেদুল ইসলাম প্রথম আলোর সঙ্গে শেয়ার করেন যে, চাঁদাবাজির মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কবিরকে লালখান বাজার এলাকা থেকে গৃহীত করা হয় এবং তাকে অপরাধী হিসেবে দফতরে হস্তান্তর করা হয়েছে। কবির গ্রেপ্তারকালে তিনি নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়েছেন, তবে তা কোনো প্রমাণ ছাড়া রয়ে গেছে।
পুলিশের মতে, সিরাজের ওপর আক্রমণ ও চাঁদা দাবি করা একটি সংগঠিত অপরাধের অংশ, যেখানে একাধিক ব্যক্তি একসাথে কাজ করেছে। তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ভিডিও রেকর্ডিং অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মামলাটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ আদালতে পাঠানো হবে এবং শীঘ্রই শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, চাঁদাবাজি ও শারীরিক হিংসা উভয়ই অপরাধের শিরোনাম পায় এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নির্ধারিত। সিরাজের অভিযোগের ভিত্তিতে, কবিরকে অপরাধমূলক দায়ে অভিযুক্ত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনার পর চট্টগ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ে চাঁদাবাজি ও হিংসার বিরুদ্ধে সতর্কতা বাড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে জানিয়েছে যে, এমন কোনো হুমকি বা হিংসা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় রিপোর্ট করতে হবে।
অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা হবে।



