বিশ্বকাপের দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হওয়ার আগে, ভারত এ দলের ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদব তিলক ভার্মার তৃতীয় ক্রমে ভূমিকা নিয়ে তার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিলকের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ২৫, ২৫, ২৫ এবং ৩১ রান অন্তর্ভুক্ত, যা তার প্রত্যাশিত উচ্চ স্কোরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ক্যাপ্টেনের মতে, এই সংখ্যাগুলি তার ভূমিকার মূল দিককে বদলে দেয় না।
তিলকের আক্রমণাত্মক শৈলীর সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ১৫০ের উপরে ছিল। পরের ম্যাচগুলোতে তার রেট ১০৪ থেকে ১১৫ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা কিছুটা সংযত বলে বিবেচিত। তবু সুর্যকুমার উল্লেখ করেন, বড় স্কোরের অভাব সত্ত্বেও তিলকের আউটপুটে কোনো ত্রুটি নেই, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী তার খেলা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ক্যাপ্টেনের মতে, তিলকের কাজ কেবল বলের ওপর আক্রমণ করা নয়; দলীয় কৌশল অনুযায়ী তার পদ্ধতি নির্ধারিত। এক উইকেট ডাউন হলে, তিনি পাওয়ারপ্লে সময়ে আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে পারেন, যা দ্রুত রান সংগ্রহে সহায়তা করে। তবে দুই উইকেট ডাউন হলে, তাকে কিছুটা পেছনে সরে পার্টনারশিপ গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হয়, যাতে দশম ওভারে পৌঁছানো যায় এবং পরবর্তী পর্যায়ে শক্তি বাড়ানো যায়।
এই পরিবর্তনশীল ভূমিকা তিলকের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ দায়িত্ব, যা তাকে দ্রুত স্কোর বাড়ানোর পাশাপাশি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাধ্য করে। সুর্যকুমার জোর দিয়ে বলেন, দুই উইকেটের পর তিলকের কাজ হল শাটলিং না করে পার্টনারশিপকে মজবুত করা, যাতে দলটি মাঝের ওভারগুলোতে চাপ কমাতে পারে। এরপর দশম ওভারের পর, তিনি আবার আক্রমণাত্মক শৈলীতে ফিরে এসে বলার ওপর চাপ বাড়াতে পারেন।
ক্যাপ্টেন তিলকের প্রশিক্ষণ সেশনের কথা উল্লেখ করে বলেন, শেষ দুই-তিনটি প্র্যাকটিসে তিনি যথেষ্ট কাজ করেছেন এবং তার ফর্মে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তিলকের বর্তমান পারফরম্যান্সে তিনি কোনো উদ্বেগ প্রকাশ না করে, তার ভূমিকা এবং সম্ভাবনা নিয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। সুর্যকুমার বিশ্বাস করেন, তিলক তৃতীয় ক্রমে ভারত একে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে বড় স্কোরের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিলকের পরিবর্তে সানজু স্যামসনকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় সুর্যকুমার হালকা হাসি দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, স্যামসনকে তিলকের জায়গায় বসানো এখন প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ বর্তমান পাওয়ারপ্লে পর্যায়ে দলটি ৪০-৫০ রান সংগ্রহ করছে, যা স্বাভাবিক ক্রিকেটের অংশ। এই রকম পারফরম্যান্সে দলটি ইতিমধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে।
ক্যাপ্টেন আরও উল্লেখ করেন, দলটির লক্ষ্য ২২০ থেকে ২৫০ রান তৈরি করা, যদিও উইকেটের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। তিলকের ভূমিকা এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন শুরুর ওভারগুলোতে দ্রুত রান দরকার এবং মাঝের ওভারগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হয়। তিনি তিলকের বর্তমান ব্যাটিং শৈলীর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে আরও উন্নতি আশা করেন।
সারসংক্ষেপে, সুর্যকুমার যাদব তিলক ভার্মার তৃতীয় ক্রমে ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেছেন এবং তার পারফরম্যান্সে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি দলের কৌশলগত দিক থেকে তিলকের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং স্যামসনের সম্ভাব্য পরিবর্তনকে অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা মোকাবেলায় প্রস্তুত করবে।
পরবর্তী ম্যাচে ভারত এ দক্ষিণ আফ্রিকাকে মুখোমুখি হবে, যেখানে তিলকের ভূমিকা এবং ক্যাপ্টেনের নির্দেশনা দলের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। উভয় দলই উচ্চ স্কোরের প্রত্যাশা রাখলেও, উইকেটের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করা হবে। তিলকের পারফরম্যান্স এবং সুর্যকুমারের নেতৃত্বের সমন্বয়ই ম্যাচের মূল চাবিকাঠি হবে।



