সাভারের আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ১২টার পর জামগড়া ও পার্শ্ববর্তী পাড়া থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ১৪ সদস্যকে গৃহে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের তরুণরা অন্তর্ভুক্ত, যাদের নাম ও বয়স নিম্নরূপ।
পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলাকালে গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত করে শান্তিপূর্ণভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে জামগড়া ও আশেপাশের মহল্লা ঘুরে দেখা হয়, যেখানে সন্দেহভাজনদের বাসস্থান ও গ্যাংয়ের কার্যক্রমের স্থান চিহ্নিত করা হয়।
অভিযুক্তদের তালিকায় তপন ব্যাপারী (১৮), রজব (২১), মুন্না আহমেদ (১৮), শিপন মিয়া (২৫), শান্ত সরকার (২২), আরজু (২০), সানি ইসলাম (২৩), রায়হান ইসলাম রাকিব (২০), শাকিল (২০), রাতুল ইসলাম (২০), সোহান (২০), রনি ইসলাম (১৯), কুরবান (২২) ও শাকিল (২৫) অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকের বয়স ও নাম মূল প্রতিবেদনে যেমন উল্লেখ আছে তেমনই উপস্থাপন করা হয়েছে।
গ্রেফতারকালে কোনো সহিংসতা ঘটেনি; সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ দল সদস্যদের সঙ্গে কিছু অবৈধ সামগ্রী, যেমন তলোয়ার, মোবাইল ফোন এবং চুরি করা জিনিসপত্রও জব্দ করেছে। এই জব্দকৃত সামগ্রী গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার দুপুরে আশুলিয়া সেশন কোর্টে হাজির করা হয়। আদালতে তাদের গ্যাং গঠন, অবৈধ অস্ত্রধারী অপরাধ এবং জননিরাপত্তা হুমকি ইত্যাদি অভিযোগে রেজিস্টার করা হয়েছে। প্রাথমিক শোনানিতে আদালত তাদের জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, তবে পরবর্তী শোনানিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ধারা ১৪৪ ও ১৪৫ অনুসারে মামলা দায়ের করা হবে, যা গ্যাং গঠন ও অবৈধ অস্ত্রধারী অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করে। পরবর্তী শোনানির তারিখ আদালত নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে জানানো হবে, এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি উপস্থাপনের জন্য তদন্ত চলবে।
আশুলিয়া এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একই গ্যাং পূর্বে চুরি, হুমকি এবং ছোটখাটো হিংসা ঘটিয়ে থাকে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ গ্যাংবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেফতার করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া, আশুলিয়া এলাকায় অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাংবদ্ধ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



