23.9 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজ্বালানিমন্ত্রী টুকু ভাষা সংরক্ষণে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’কে অস্বীকার

জ্বালানিমন্ত্রী টুকু ভাষা সংরক্ষণে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’কে অস্বীকার

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত থেকে ভাষা নীতি ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেন।

মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, “বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না”। তিনি উল্লেখ করেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ এগুলো বাংলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ইনকিলাব শব্দ তো অন্যদিকের ভাষা, যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল।”

টুকু আরও বলেন, “আমার ব্লিডিং হয়। আজকে সেটাই আমাদের ছেলেদের ভাষা হয়ে গেছে, ইট ইজ এ ফেইলিয়র অব আওর টিচার। মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম সমাজ পরিবর্তনের জন্য। কিন্তু সমাজ যে উল্টো দিকে হাঁটে এখন বুঝতে পারছি।” তিনি যুক্তি দেন যে, “এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে তারপরও আমি বলবো কারণ আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।”

ব্রিটিশ শাসনের সময়কালে ভাষা নীতি নিয়ে টুকু তীব্র সমালোচনা করেন। “ব্রিটিশরা এই দেশে অনেক ক্ষতি করে গেছে। আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে চেপে ধরা হয়েছিল, আমাদের শোষণ করার জন্য,” তিনি বলেন। শোষণের বিরোধে ৫৪ সালের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের অবদানকে তিনি “বাংলাদেশে ও বাঙ্গালীর আবাস্থলের প্রথম বীজ বোপন করে গিয়েছিল” বলে উল্লেখ করেন। “সেই বীজটিই ৭১ এর যুদ্ধকে তরান্বিত করেছিলো,” তিনি যোগ করেন।

মন্ত্রীর মতে, আজকের তরুণদের ভাষা সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। “তোমরা যারা ইয়াং আছো তোমাদের ভাবতে হবে, না হলে কিন্তু আমাদের এক্সট্রিম রাইট চলে যাবে,” তিনি সতর্ক করেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “নিজের ভাষাকে ঠিকমত জানার চেষ্টা করি নাই বলেই আমাদের মধ্যে ন্যাশনালিজমটা গ্রো করে নাই। নিজের ভাষা, নিজের দেশ আমাদের কেই গড়তে হবে, অন্য কেউ গড়ে দেবে না।”

এই মন্তব্যের পর, উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা মন্ত্রীর বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে হাততালি দেন। ভাষা সংরক্ষণ ও জাতীয় পরিচয়ের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এবং অংশগ্রহণকারীরা টুকুর মতামতকে দেশের ভাষা নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, মন্ত্রীর এই রকম উগ্র ভাষা ব্যবহার সরকারী ভাষা নীতি ও শিক্ষামূলক সংস্কারকে প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যতে ভাষা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন, পাঠ্যপুস্তক সংশোধন এবং মিডিয়ায় ভাষা প্রচারকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভাষা সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে সরকারী কর্মসূচি চালু হতে পারে।

মন্ত্রীর এই বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভাষা সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমালোচনা আসতে পারে, বিশেষ করে যারা ভাষা নীতি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। তবে সরকারী পক্ষ থেকে এই ধরনের মন্তব্যকে জাতীয় ঐক্য ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

সারসংক্ষেপে, জ্বালানিমন্ত্রী টুকু ভাষা সংরক্ষণে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’কে অস্বীকার করে দেশের ভাষা নীতি ও জাতীয়তাবাদকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলো ভাষা সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments