23.9 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনবার্লিন প্যানোরামা সেকশনে 'প্রোসিকিউশন' ও 'ট্রেসেস' পেল দর্শক পুরস্কার

বার্লিন প্যানোরামা সেকশনে ‘প্রোসিকিউশন’ ও ‘ট্রেসেস’ পেল দর্শক পুরস্কার

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের প্যানোরামা শাখায় দুইটি রাজনৈতিক থিমের কাজ এই বছর শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। জার্মান নাট্যচিত্র ‘প্রোসিকিউশন’ এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ‑সংক্রান্ত ডকুমেন্টারি ‘ট্রেসেস’ যথাক্রমে শ্রেষ্ঠ ফিচার এবং শ্রেষ্ঠ ডকুমেন্টারির জন্য দর্শক পুরস্কার জিতেছে। উভয় চলচ্চিত্রই দর্শকদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়, যেখানে মোট ২৬,৫০০ের বেশি ভোট গৃহীত হয়েছে।

‘প্রোসিকিউশন’ ফারাজ শারিয়াতের পরিচালনায় তৈরি একটি জার্মান নাট্যচিত্র, যা পূর্ব জার্মানিতে উগ্র ডানবাদের সহিংসতা মোকাবেলায় এক তরুণ প্রসিকিউটরের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। প্রধান চরিত্রে চেন এমিলি ইয়ান সেও কিমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি ডানবাদের আক্রমণের শিকার হয়ে নিজের ওপর আক্রমণ তদন্তে লিপ্ত হন। তার অনুসন্ধান তাকে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে, যেখানে তিনি নিজের আদর্শ ও দায়িত্বের মধ্যে দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হন। জুলিয়া জেনচ, আলেভ ইরমাক, আর্ন্ড ক্লাভিটার এবং সেবাস্টিয়ান উরজেনডোস্কি সহ অন্যান্য অভিনেতা ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্ববিক্রয় কাজটি নিউ ইউরোপ ফিল্ম সেলস পরিচালনা করছে।

‘ট্রেসেস’ আলিসা কোভালেনকোর পরিচালিত একটি ডকুমেন্টারি, যা রাশিয়ার আক্রমণের ফলে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলে যৌন নির্যাতন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীদের কাহিনী তুলে ধরে। চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইরিনা দোভান, যিনি একসময় বন্দী ছিলেন এবং এখন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য সংগ্রহে নিয়োজিত। তার সঙ্গে দেখা হওয়া নারীদের গল্পের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি সমষ্টিগত ট্রমা এবং বেঁচে থাকার দৃঢ়তা উন্মোচন করে। এই কাজের বিশ্ববিক্রয় স্ট্রেঞ্জার ফিল্ম সেলসের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

দর্শক পুরস্কারটি বার্লিনের সাধারণ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এই বছর ভোটের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা ও দর্শকদের গভীর সংযোগের ইঙ্গিত দেয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি রবিবার জু প্যালাস্টে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বার্লিনালিনের আয়োজক দল রেডিওইনস এবং আঞ্চলিক পাবলিক ব্রডকাস্টের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে।

উভয় চলচ্চিত্রই বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার উপর আলোকপাত করে, যা দর্শকদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনার সঞ্চার ঘটায়। ‘প্রোসিকিউশন’ ডানবাদের উত্থান ও রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের পথে ব্যক্তিগত ত্যাগের চিত্র তুলে ধরে। অন্যদিকে ‘ট্রেসেস’ যুদ্ধের সময় মানবিক অপরাধের গোপন দিক উন্মোচন করে, এবং বেঁচে থাকা নারীদের কণ্ঠকে বিশ্বমঞ্চে শোনায়। উভয় কাজই তাদের নিজস্ব শৈলীতে শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমাবেশে প্রশংসিত হয়েছে।

বার্লিন প্যানোরামা সেকশনের এই সাফল্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে তরুণ চলচ্চিত্রশিল্পী ও ডকুমেন্টারিস্টদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়।

যারা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমসাময়িক বিষয়ের গভীরতা অন্বেষণ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘প্রোসিকিউশন’ ও ‘ট্রেসেস’ দুটোই অবশ্যই দেখার যোগ্য। উভয় কাজই এখন বিশ্বব্যাপী বিক্রয়ের অধীনে রয়েছে, তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা স্থানীয় সিনেমা হলের মাধ্যমে সহজেই অ্যাক্সেস করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা যদি এই ধরণের সাহসী ও সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু বেছে নেন, তবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মঞ্চে আমাদের দেশের সৃজনশীলতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও উজ্জ্বল হবে।

আপনার যদি সময় থাকে, তবে এই দুইটি চলচ্চিত্রের কোনো একটিকে দেখার পরিকল্পনা করুন এবং তাদের মাধ্যমে উন্মোচিত সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নিজের মতামত গঠন করুন। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার কোণগুলোকে আলোকিত করা সম্ভব, এবং আপনার এই অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সমালোচনামূলক আলোচনার সূচনা হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments