ধাকা‑৩ নির্বাচনী এলাকা প্রতিনিধিত্বকারী এবং বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য বিমল চন্দ্র রায় আজ বিকাল কেরানিগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রিপদে আসার উদ্দেশ্য না রাখার কথা জানিয়ে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে নিজের মূল লক্ষ্যকে পরিষ্কার করে তুলে ধরেন যে, তিনি কেবল জনগণের প্রতিনিধি হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
বিমল চন্দ্র রায় বলেন, “No one should try to console me. I’m not involved in politics to become a minister. I contested to become a representative of the people,” এই বক্তব্যে তিনি মন্ত্রিপদে আসার জন্য কোনো আশাবাদী না থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। তার এই মন্তব্যের পেছনে পার্টির অভ্যন্তরে মন্ত্রিপদী পদ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
বক্তা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, পার্টির সহকর্মীরা তাকে “সান্ত্বনা” দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি কোনো সান্ত্বনা চাই না, কারণ আমার রাজনৈতিক লক্ষ্য মন্ত্রিপদ নয়, বরং জনগণের সেবা করা।” এই কথা শোনার পর উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে একধরনের সম্মতি দেখা যায়, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
বিমল চন্দ্র রায় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা পেশাদারিত্ব বজায় রাখুক। তিনি সতর্ক করেন যে, পার্টির নেতা ও কর্মীদের জন্য আইনগত সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। তার মতে, আইনকে অমান্য করা কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং তা দেশের শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, “If this happens, I will go to parliament and mention names directly,” এই বক্তব্যে তিনি সম্ভাব্য কোনো অবৈধ কাজের ক্ষেত্রে সরাসরি সংসদে বিষয়টি তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সংসদে নাম উল্লেখের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব এবং তা পার্টির অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।
এই মন্তব্যের পর পার্টির অভ্যন্তরে মন্ত্রিপদী পদ সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তবে বিমল চন্দ্র রায়ের নিজস্ব বক্তব্যে তিনি কোনো অনুমান বা বিশ্লেষণ না দিয়ে কেবল তার ব্যক্তিগত নীতি তুলে ধরেছেন। তার এই অবস্থান সম্ভবত অন্যান্য সংসদ সদস্যদেরও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিমল চন্দ্র রায়ের এই প্রকাশনা বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে মন্ত্রিপদী পদ বিতরণ সংক্রান্ত আলোচনার ধারা পরিবর্তন করতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মন্ত্রিপদী পদ তার রাজনৈতিক লক্ষ্য নয়, ফলে পার্টির অভ্যন্তরে মন্ত্রিপদী পদ নিয়ে যে চাপ রয়েছে, তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিকন্তু, তিনি প্রশাসনের পেশাদারিত্বের আহ্বান জানিয়ে আইনগত সীমা অতিক্রম না করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিমল চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের পর পার্টির অন্যান্য সদস্যরা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে তার কথার প্রতি সম্মানজনক মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। তিনি যে সান্ত্বনা প্রত্যাখ্যানের কথা বলেছেন, তা পার্টির অভ্যন্তরে মন্ত্রিপদী পদ নিয়ে যে অতিরিক্ত প্রত্যাশা রয়েছে, তার বিরোধিতা হিসেবে দেখা যায়।
ভবিষ্যতে, যদি পার্টি মন্ত্রিপদী পদ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিমল চন্দ্র রায়ের এই স্পষ্ট অবস্থানকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হতে পারে। তার এই প্রকাশনা পার্টির নীতি নির্ধারণে একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিমল চন্দ্র রায়ের আজকের মন্তব্যে তিনি মন্ত্রিপদী পদকে তার রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বাদ দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, প্রশাসনের পেশাদারিত্বের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরাসরি সংসদে বিষয়টি তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থান তার রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং পার্টির অভ্যন্তরে ভবিষ্যৎ আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



