গত দুই মাসে এনবিসি মোট আটটি নতুন পাইলট অর্ডার করেছে, যা গত বছরের অর্ধেকেরও বেশি এবং ২০২৫ উন্নয়ন চক্রে সব নেটওয়ার্কের সম্মিলিত সাতটি পাইলটের চেয়ে বেশি। এবিসি ও সিবিএস প্রত্যেকই দুইটি পাইলটের অর্ডার জানিয়েছে, ফলে মোট পাইলট সংখ্যা বারোটি হয়েছে। যদিও এই সংখ্যা সাময়িকভাবে পাইলট মৌসুমে কিছু প্রাণ সঞ্চার করেছে, তবে সামগ্রিক প্রবণতা এখনও হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০১৯ সালে নেটওয়ার্কগুলো সর্বমোট ৬৬টি পাইলট অর্ডার করেছিল, যা তখনের সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেকর্ড ছিল। সেই পর থেকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, কোভিড-১৯ মহামারী এবং ২০২৩ সালের স্ট্রাইকসহ বিভিন্ন কারণের সমন্বয়ে পাইলটের সংখ্যা ক্রমাগত কমে এসেছে, এবং ২০২৪ সালে মাত্র পাঁচটি পাইলটই অর্ডার করা হয়েছিল। ফক্স এবং The CW প্রায় সম্পূর্ণভাবে পাইলট মডেল ত্যাগ করে স্ক্রিপ্ট‑টু‑সিরিজ বা সরাসরি সিরিজ পিকআপে মনোযোগ দিয়েছে, আর অন্যান্য নেটওয়ার্কও রাইটার রুম ও স্ক্রিপ্ট‑টু‑সিরিজ পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কন্টেন্ট তৈরি করছে।
এই সামান্য পুনরুজ্জীবন টিভি শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেখক, অভিনেতা ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের জন্য অল্প সময়ের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, এবং একে একে নির্বাহীরা বুঝতে পারছে যে পুরনো পাইলট সিস্টেমের কিছু দিক এখনও কার্যকর হতে পারে। তবে এই আশার আলোয় অতীতের পাইলট মৌসুমের অদক্ষতা ভুলে যাওয়া যায় না।
পূর্বে নেটওয়ার্ক পাইলট মৌসুমে শত শত স্ক্রিপ্ট অনুমোদিত হতো, যার মধ্যে থেকে কয়েক ডজন পাইলট তৈরি হতো এবং তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শুটিং সম্পন্ন হতো। শেষ পর্যন্ত প্রায় বিশটি সিরিজই টেলিভিশনে আসত, যা ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার তুলনায় লাভজনক ছিল না। তবু এই দ্রুতগতি এবং অপ্রত্যাশিত প্রকল্পের উন্মাদনা শিল্পের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা জাগিয়ে তুলত।
বছরের পর বছর ধরে নেটওয়ার্কগুলো দক্ষতা বাড়াতে বিকল্প মডেল অনুসন্ধান করেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে শুটিং শিডিউল ব্যাহত হওয়ায় রিমোট কাজের দিকে ঝোঁক বাড়ে, আর ২০২৩ সালের স্ট্রাইক শিল্পের শ্রমিকদের অধিকার ও কাজের শর্ত নিয়ে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দেয়। এসব পরিবর্তন পাইলটের সংখ্যা হ্রাসের পাশাপাশি বিকল্প বিকাশ পদ্ধতির গ্রহণকে ত্বরান্বিত করেছে।
এখনো স্পষ্ট নয় যে পাইলট মৌসুমের এই সাময়িক উত্থান দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিকতা পাবে কিনা। তবে বর্তমান অর্ডারগুলো লেখক ও অভিনেতাদের জন্য স্বল্পমেয়াদে কাজের সুযোগ এনে দিচ্ছে, এবং নেটওয়ার্কগুলোকে পুরনো পদ্ধতির কিছু সুবিধা পুনর্বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কীভাবে এই নতুন ও পুরনো মডেলগুলোকে সমন্বয় করে টিভি কন্টেন্টের গুণমান ও আর্থিক স্থায়িত্ব বজায় রাখা যায় তার ওপর।
সারসংক্ষেপে, এনবিসি, এবিসি ও সিবিএসের সাম্প্রতিক পাইলট অর্ডার টিভি শিল্পের জন্য এক ক্ষণস্থায়ী উজ্জ্বলতা প্রদান করেছে, তবে সামগ্রিক প্রবণতা এখনও হ্রাসের দিকে। শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে নেটওয়ার্কগুলো বিকল্প উন্নয়ন মডেল গ্রহণে অগ্রসর হচ্ছে, এবং পাইলট মৌসুমের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই মডেলগুলোর কার্যকারিতা ও বাজারের চাহিদার উপর।



