25.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানTRPV4 প্রোটিনের দ্বৈত ভূমিকা: চুলকানি শুরু ও থামাতে উভয়ই জড়িত

TRPV4 প্রোটিনের দ্বৈত ভূমিকা: চুলকানি শুরু ও থামাতে উভয়ই জড়িত

বায়োফিজিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্রুক্সেলসের ইউনিভার্সিটে ক্যাথলিক লুভাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্তা গৌলদানি এবং তার দল মাইসের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। গবেষণায় দেখা যায়, TRPV4 নামের একটি প্রোটিন চুলকানি উদ্রেক এবং চুলকানি থামাতে উভয় প্রক্রিয়ায়ই কাজ করে।

TRPV4 প্রোটিনটি শরীরের বিভিন্ন স্নায়ু কোষে উপস্থিত, বিশেষ করে যেগুলো ব্যথা ও চুলকানি অনুভবের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকরা প্রথমে অনুমান করেন যে এই প্রোটিনটি মূলত ব্যথা সনাক্তকরণে ভূমিকা রাখে, তবে চুলকানির সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে মতবিরোধ ছিল। নতুন পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে এই প্রোটিনটি স্পর্শ ও যান্ত্রিক উদ্দীপনা, যেমন ঘষা, সনাক্তকারী স্নায়ু কোষেও পাওয়া যায়।

গৌলদানির দল জেনেটিক পদ্ধতিতে এমন মাইস তৈরি করে, যাদের নির্দিষ্ট স্নায়ু কোষে TRTRV4 প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। এই মাইসগুলো ব্যথা সংবেদন ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মাইসের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখায়, ফলে প্রোটিনের ব্যথা সংবেদনকেন্দ্রিক ভূমিকা সীমিত হয়। এরপর গবেষকরা ভিটামিন‑ডি সমজাতীয় একটি পদার্থ ব্যবহার করে মাইসের ত্বকে একধরনের একজিমা অনুকরণ করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দশ শতাংশ মানুষের ত্বকে দেখা যায় এবং চুলকানি, শুষ্কতা ও র্যাশের কারণ হয়।

TRPV4 প্রোটিনযুক্ত মাইসগুলোতে চুলকানি উদ্রেককারী উদ্দীপনা পাওয়ার পর স্বল্প সময়ের বহুবার ঘষা পর্যবেক্ষণ করা যায়। অন্যদিকে, প্রোটিনহীন মাইসগুলোতে ঘষার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে, যা ইঙ্গিত করে যে TRPV4 চুলকানি শুরু করতে সহায়তা করে। তবে এই মাইসগুলো সম্পূর্ণভাবে চুলকানি থেকে মুক্ত নয়; কখনও কখনও তারা এখনও চুলকানিতে ভোগে।

যখন প্রোটিনহীন মাইসগুলো ঘষে, তাদের ঘষার সময়কাল স্বাভাবিক মাইসের তুলনায় অনেক দীর্ঘ হয়। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেন, প্রোটিনের অনুপস্থিতিতে ঘষার পর স্বস্তি পাওয়ার নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ঘষা থামতে বেশি সময় নেয়। এই ফলাফল দেখায় যে TRPV4 কেবল চুলকানি উদ্রেকেই নয়, ঘষার পর স্বস্তি পাওয়ার সংকেত পাঠাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই গবেষণার ফলাফল মানবদেহে দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি রোগের কারণ বিশ্লেষণে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে পারে। যদিও TRPV4 একমাত্র দায়ী নয়, তবু এর কার্যকারিতা বোঝা ভবিষ্যতে চুলকানি নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন থেরাপি বিকাশে সহায়ক হতে পারে।

গৌলদানি ও সহকর্মীরা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে মানব স্নায়ু কোষে TRPV4 এর ভূমিকা আরও বিশদভাবে গবেষণা করা হবে, যাতে দীর্ঘস্থায়ী একজিমা বা অন্যান্য চুলকানি-সম্পর্কিত রোগে রোগীর জীবনমান উন্নত করা যায়।

আপনার কি কখনও অপ্রতিরোধ্য চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় খুঁজতে হয়েছে? নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো কি আপনার রোগের সমাধানে সাহায্য করতে পারে, তা নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments