25.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশিবচরে গাইড ওয়ালের নিচে কলা গাছ বসানো ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে...

শিবচরে গাইড ওয়ালের নিচে কলা গাছ বসানো ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ

শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজের অধীনে ইটের গাঁথুনির নিচে কলা গাছ রোপণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকল্প দায়িত্বশীলদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই গাইড ওয়ালটি শিপাইকান্দি থেকে মুন্সিকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের অংশে নির্মাণাধীন, যা ছয় মাস আগে শুরুর কথা ছিল। তবে কাজের অগ্রগতি ধীরগতিতে চলায় সম্প্রতি গাইড ওয়ালের এক পাশে ইট ও পিলার ব্যবহার শুরু করা হয়েছে, যেখানে কলা গাছের উপস্থিতি ও নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ তীব্র হয়েছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য নির্ধারিত এলাকায়, মসজিদের সামনে গাঁথুনির নিচে একাধিক কলা গাছ বসানো হয়েছে। এই গাছগুলো গাইড ওয়ালের ভিত্তি দুর্বল করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যবহার করা ইট ও পিলারকে স্থানীয়রা নিম্নমানের বলে সমালোচনা করছেন, যা সড়কের দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

প্রকল্পটি শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ থেকে শুরু হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সিকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণের অংশ হিসেবে চালু হয়। তবে শুরুর পর থেকেই কাজের গতি ধীর ছিল, ফলে সময়মতো সমাপ্তি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে। সম্প্রতি ঠিকাদারী সংস্থা ইট ও পিলার সরবরাহ করে গাইড ওয়ালের এক পাশে কাজ শুরু করেছে, তবে এই সামগ্রীকে নিম্নমানের বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “এই সড়কটি আমাদের এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; হাজার হাজার মানুষ এখানে থেকে উপজেলা সদর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গাইড ওয়ালের নিচে কলা গাছ বসানো এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে; ঠিকাদার রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের সাব‑লিজে কাজ দিচ্ছেন, আর এলজিইডি কোনো তদারকি করছেন না।” হাবিবুর রহমান অবিলম্বে এই অনিয়মের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়েছেন।

কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার জানান, “মিস্ত্রি আমাকে কোনো তথ্য দেননি; কাজ করা মিস্ত্রিকে আমি জানিয়েছি কেন এভাবে করা হয়েছে। আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি।” তিনি যোগ করেন, “যদি কলা গাছের উপস্থিতি সমস্যার কারণ হয়, আমি তা সরিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে দেব।”

শিবচর উপজেলা এলজিইডি উপ‑সহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার জানান, “নির্বাচনের পর থেকে আমি এই সাইটে আর গিয়েছি না; এখনই এই ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করেছি। আমরা কলা গাছ সরিয়ে নতুন করে কাজ করাব।” তিনি উল্লেখ করেন, “প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।”

উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিমের সঙ্গে বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। একই সময়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কির্তের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে তদারকি কমে যাওয়া এবং প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এলজিইডি কর্মকর্তারা প্রকল্প স্থানে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখেন না, ফলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় গাছ রোপণের মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

হাবিবুর রহমান ও অন্যান্য বাসিন্দা এখনো প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত তদন্তের দাবি করছেন। যদি যথাযথ তদারকি না করা হয়, তবে সড়কের নিরাপত্তা ও ব্যবহারিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন যাতায়াতকে প্রভাবিত করবে। ভবিষ্যতে এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি শক্তিশালী করে, প্রকল্পের গুণমান নিশ্চিত করা এবং অনিয়মিত কাজের দায়ীকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া জরুরি।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments