মদ্রাস হাই কোর্টে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মিডিয়া শাখা জিও স্টুডিওসের ধুরন্ধর চলচ্চিত্রের সম্ভাব্য পাইরেসি মোকাবেলায় দায়ের করা বাণিজ্যিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আদালতে ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি হয়, যেখানে বিচারপতি সেথিলকুমার রামমূর্তির নির্দেশে রিলায়েন্সের আইনজীবী ক্লায়েন্টের আদেশ জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার করেন। আদালত এই ভিত্তিতে মামলাটি প্রত্যাহারিত হিসেবে বন্ধ করে এবং কোনো খরচ আরোপ না করে।
মামলাটির শিরোনাম রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বনাম বিএসএনএল, যা মূলত কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ এর অধীনে দায়ের করা হয়েছিল। জিও স্টুডিওসের লক্ষ্য ছিল ধুরন্ধর চলচ্চিত্রের অননুমোদিত অনলাইন প্রচার এবং কেবল টেলিভিশন মাধ্যমে অবৈধ সম্প্রচার রোধ করা। এই ধরনের অ্যান্টি-পাইরেসি আবেদন সাধারণত চলচ্চিত্রের থিয়েটার মুক্তির আগে করা হয়, যাতে প্রাথমিক বক্স অফিস আয় সুরক্ষিত থাকে।
শুনানিতে রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে ক্লায়েন্টের নির্দেশে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আদালতকে এই তথ্য জানিয়ে মামলাটি বন্ধ করার অনুমতি চেয়েছেন। বিচারপতি রামমূর্তির রায়ে কোনো আর্থিক দায়িত্ব আরোপ না করে মামলাটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে মামলায় যুক্ত অস্থায়ী আবেদনগুলোও বন্ধ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জিও স্টুডিওস কপিরাইট লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিল, যাতে অননুমোদিত ওয়েবসাইটগুলোকে ব্লক করা যায় এবং কেবল নেটওয়ার্ক প্রদানকারীদেরকে নোটিশের মাধ্যমে লঙ্ঘনকারী সাইট বন্ধ করতে বাধ্য করা যায়। এছাড়া কেবল টেলিভিশন, ডিটিএইচ, স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মে চলচ্চিত্রের অননুমোদিত রেকর্ডিং, ডুপ্লিকেশন এবং বিতরণ বন্ধ করার জন্য আদেশ চাওয়া হয়েছিল।
মামলায় বহু টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী, পাশাপাশি কেবল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তালিকায় ভারতীয় টেলিকম সেবা প্রদানকারী বিএসএনএল, এমটিএনএল, ভারত এয়ারটেল, ভোডাফোন আইডিয়া, টাটা কমিউনিকেশনস, সাইফি টেকনোলজিস, হ্যাথওয়ে, জিটিপিএল হ্যাথওয়ে, এশিয়ানেট স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং স্পেকট্রা আইএসপি নেটওয়ার্কসসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক কেবল অপারেটর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জিও স্টুডিওসের মূল দাবি ছিল যে এই সেবা প্রদানকারীরা অবৈধ কপি হোস্টিং সাইটগুলোকে দ্রুত ব্লক করবে এবং কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের অননুমোদিত রেকর্ডিং ও সম্প্রচার বন্ধ করবে। এ ধরনের অ্যান্টি-পাইরেসি পদক্ষেপ সাধারণত চলচ্চিত্রের প্রি-রিলিজ পর্যায়ে বাজারের আয় রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
মামলাটি প্রত্যাহারিত হওয়ায় রিলায়েন্সের অ্যান্টি-পাইরেসি কৌশল সাময়িকভাবে থেমে যাবে, তবে কোম্পানি ভবিষ্যতে একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ পুনরায় গ্রহণের সম্ভাবনা রাখে। শিল্পে এই সিদ্ধান্তকে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে কপিরাইট লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে আইনি পদক্ষেপের সময়সীমা ও কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে রিলায়েন্সের এই প্রত্যাহার চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক রিলিজে তাত্ক্ষণিক কোনো প্রভাব ফেলবে না, তবে ভবিষ্যতে অনলাইন পাইরেসি মোকাবেলায় আইনি প্রক্রিয়ার ব্যবহার কমতে পারে। একই সঙ্গে, কেবল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের উপর চাপ কমে যাবে, যা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দেবে।
কপিরাইট আইনের অধীনে রিলায়েন্সের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধুরন্ধর চলচ্চিত্রের রিলিজের আগে সম্ভাব্য আয় ক্ষতি রোধ করা। যদিও এই মামলা এখন বন্ধ, তবে চলচ্চিত্রের মুক্তির পর যদি কোনো লঙ্ঘন ধরা পড়ে, তবে কোম্পানি পুনরায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
অবশেষে, মদ্রাস হাই কোর্টের এই রায় রিলায়েন্সের অ্যান্টি-পাইরেসি কৌশলের একটি সাময়িক বিরতি নির্দেশ করে, তবে শিল্পের সামগ্রিক কপিরাইট সুরক্ষা নীতি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত একই ধরনের মামলা আবার দেখা দিতে পারে।



