পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জিয়ানগর উপজেলার আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদের রক্তের ঋণ শোধের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের স্মৃতি কেবল ভাষার দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়; তা ন্যায়, অধিকার ও মর্যাদার সংগ্রামের প্রতীক।
মাসুদ সাঈদী বলেন, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল, তা উপেক্ষা করে পূর্ব বাংলার ছাত্র ও যুবসমাজ রাজপথে নেমে ভাষা রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানায়। সেই সময় পুলিশ গুলির শিকার হয়ে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত, রফিকসহ অজানা বহু শহীদ হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এ তরুণদের রক্তে ঢাকা রাজপথের রঙ লাল হয়ে ওঠে, যা আজও ভাষা প্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।
সাঈদী জোর দিয়ে বলেন, আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জনের জন্য বুকের তাজা রক্তের দাম দিয়েছি। একুশের চেতনা মানে কোনো সমঝোতা না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা, আর ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল কারণই ভাষা আন্দোলনের অবিচলতা। একইভাবে, আজকের ২৪ তারিখের লক্ষ্যও ঐ চেতনার ধারাবাহিকতা, যা নতুন বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি অতীতের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো উল্লেখ করে বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪—all একসাথে যুক্ত। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের অর্জন। তবে সাঈদী সতর্ক করেন, এই স্বীকৃতি কেবল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে তা পূর্ণতা পাবে না; বাস্তবে বাংলা ভাষার ব্যবহার সর্বস্তরে নিশ্চিত করা এখনো বাকি।
বিচারিক ব্যবস্থার দিক থেকে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আদালতগুলোতে এখনও ইংরেজিতে রায় লেখা হয়, যা ভাষা আন্দোলনের মূল লক্ষ্যকে ক্ষুণ্ন করে। শহীদের রক্তের ঋণ শোধের জন্য ভাষা নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি নথি, শিক্ষা ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলা ভাষার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার অপরিহার্য।
সাঈদী শেষ কথায় বলেন, বায়ান্না ও একাত্তরের চেতনা দিয়ে চব্বিশকে ধারণ করতে হবে এবং চব্বিশের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তিনি উপস্থিত সকলকে ভাষা শহীদের স্মরণে সম্মান জানাতে এবং ন্যায়, মানবিকতা ও ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।



