ঢাকা, তেজগাঁও – সরকার ঈদের পূর্বে মসজিদ ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা ও উৎসব ভাতা প্রদান করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই ঘোষণাটি প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা মাহদি আমিন আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন। তিনি এটিকে শাসনকালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মাহদি আমিনের মতে, এই ভাতা ব্যবস্থা ধর্মীয় কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভাতা প্রদান সরকারী নীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং এটি নির্বাচনের আগে করা প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন।
প্রস্তাবিত ভাতার আওতায় মসজিদ ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এদেরকে মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এবং ঈদ-উল-ফিতরের মতো প্রধান ধর্মীয় ছুটিতে অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হবে।
ভাতার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি; এই বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণের দায়িত্বে থাকবে।
প্রাথমিকভাবে, এই স্কিমটি নির্বাচিত কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে ভাতা প্রদান শুরু হবে ঈদ-উল-ফিতরের আগে, যাতে বাস্তবায়নের প্রভাব ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায়।
পাইলট সফল হলে ধীরে ধীরে পুরো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ব্যবস্থা বিস্তৃত করা হবে। সরকার বলেছে, ধাপে ধাপে রোল-আউটের মাধ্যমে সকল ধর্মীয় কর্মীকে এই সুবিধা প্রদান করা হবে।
এই ভাতা পরিকল্পনা বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি মূল অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্বে পার্টি তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ধর্মীয় কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সরকার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
মাহদি আমিন আরও জানিয়েছেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন দ্রুত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, নতুন সরকার গৃহীত নীতিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেবে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রেস সেক্রেটারি আবু Abdullah M Saleh জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে কাজের তৃতীয় দিনেই এই ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকারী দপ্তরে একাধিক নির্দেশনা জারি হয়ে দলীয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য ত্বরান্বিত কাজ শুরু হয়েছে।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, ধর্মীয় কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, এই ভাতা পরিকল্পনা নির্বাচনী পরিবেশে ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমর্থন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক সমন্বয় ও ধর্মীয় শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যাবে।
সরকারের এই ঘোষণা অনুযায়ী, পাইলট পর্যায়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রোল-আউটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঈদ-উল-ফিতরের আগে প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তী ধাপে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একই ব্যবস্থা চালু করা যায়।



