বগুড়া শহরের বড় জামে মসজিদ এলাকায় ব্যবসা চালানো দোকানদারদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১১টায় মানববন্ধন গঠন করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি ও বাজারের প্রতিনিধিরা একত্রে শৃঙ্খলায় হাত জুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
প্রায় দুই হাজারেরও বেশি দোকানদার, গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দা শৃঙ্খলায় যুক্ত হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। মানববন্ধনের অংশগ্রহণকারীরা মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে আশেপাশের বাজার পর্যন্ত একত্রে চলা পথে দৃঢ়তা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে হাত ধরে দাঁড়িয়েছেন।
এই মানববন্ধনের আয়োজন বড় মসজিদ দোকান মালিক সমিতি করেছে। সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আসমাউল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ খান, সহ-সভাপতি মো. মাসুম আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন মিন্টু, পাশাপাশি রাজাবাজার আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান ও শাপলা মার্কেটের সভাপতি মো. মাহমুদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
আলহাজ্ব আসমাউল হক মানববন্ধনের উদ্বোধনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “বগুড়া নিউমার্কেটের বড় জামে মসজিদে অর্থ লুটপাটের অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম ১৯ ফেব্রুয়ারি ইফতারের আগে ব্যবসায়ীদের ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ চালান।” তিনি এ ধরনের হুমকি পুনরায় না ঘটার জন্য প্রশাসনের ত্বরিত হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
মো. রিয়াজ খানও সমাবেশে বলেন, “আমাদের ব্যবসা চালানোর জন্য নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন, না হলে গ্রাহক ও কর্মীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।” তিনি স্থানীয় পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
মো. মাসুম আলী যোগ করেন, “রাশেদুল ইসলাম মসজিদে লুটপাটের অভিযোগে গৃহীত তদন্তের পরেও ব্যবসায়ীদের ওপর হিংসা চালিয়ে গেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইফতারের আগে রাশেদুলের দল দোকানগুলোর জানালা ভেঙে, পণ্য নষ্ট করে এবং কয়েকজনকে শারীরিকভাবে আঘাত করে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে বলা হয়। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা স্থানীয় মেয়র ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন, যেখানে তারা গার্ড, সি.সিটিভি ক্যামেরা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল স্থাপনের দাবি করেন।
বগুড়া থানায় রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। FIR-এ উল্লেখ আছে যে তিনি মসজিদে অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তদন্তের সময় ব্যবসায়ীদের ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ চালিয়েছেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত রাশেদুলের সহকর্মী কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে এবং তার অবস্থান অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘অসামাজিক আচরণ’, ‘হিংসাত্মক অপরাধ’ এবং ‘সম্পত্তি নষ্ট করার অপরাধ’ সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আইন অনুসারে, এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়িক সমিতি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় হলে পুনরায় মানববন্ধন বা প্রতিবাদ গঠন করতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
এই মানববন্ধন বগুড়া শহরের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সংহতি ও নিরাপত্তা চাহিদার স্পষ্ট প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটার আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।



