আজ বিকেল প্রায় দুইটায় কুশটিয়া বায়পাসে একটি গ্যাসে পূর্ণ লরি এবং সিএনজি চালিত অটো-রিকশার মুখোমুখি ধাক্কা ঘটায় পাঁচজনের প্রাণ ত্যাগ হয়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ও জরুরি সেবা পৌঁছে, তবে সব পীড়িতই মৃত্যুবরণ করে।
চৌরাস্তা হাইওয়ে থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ আবু ওবায়েদ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের সময় গ্যাস লরি এবং অটো-রিকশা একে অপরের পথে অগ্রসর হওয়ায় মুখোমুখি ধাক্কা লেগে, ফলে অটো-রিকশার পাঁচজন যাত্রী একসাথে নিহত হয়।
অটো-রিকশার ভিতরে ছিল তিনজন নারী ও দুইজন পুরুষ, যাদের নাম প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে: আমেনা, কোমেলা, জাকারিয়া, আশরাফুল এবং শিরিন। সব পীড়িতই কুশটিয়ার খাজানগর গ্রাম থেকে আসা বাসিন্দা, এবং তাদের পরিবার জানায় যে তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে খাজানগরে ফিরে আসছিল।
পীড়িতদের আত্মীয়ের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে গ্যাস লরি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং অটো-রিকশা সিএনজি গ্যাসে চালিত হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি ধাক্কা লেগে। উভয় গাড়ির গতি ও গ্যাসের চাপের কারণে ধাক্কা তীব্র হয়, ফলে অটো-রিকশার কাঠামো ভেঙে যায় এবং যাত্রীরা গুরুতর আঘাত পায়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করে। তবে শারীরিক ক্ষতির মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই সব পীড়িতের প্রাণ শেষ হয়ে যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। গ্যাস লরির চালক, গাড়ির লোডিং রেকর্ড এবং অটো-রিকশার রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া, সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্যাসে পূর্ণ লরি চালানোর সময় বিশেষ অনুমোদন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যদি প্রমাণে দেখা যায় যে লরির চালক বা মালিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে থাকেন, তবে তারা ট্রাফিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধ হতে পারেন। একই সঙ্গে, অটো-রিকশার রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করা হবে।
স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গ্যাস লরি ও সিএনজি অটো-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ চেকের মাধ্যমে এমন দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। তদন্তের ফলাফল যদি কোনো অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রকাশ করে, তবে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের শোকের মাঝে, স্থানীয় সমাজ এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য সমবেদনা প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি আর না ঘটে।



