প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান আজ মিরপুরের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন উপস্থিত থেকে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি দেশের বেকারত্বের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, কারণ এটি বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মিলন বলেন, শিক্ষা কেবল জ্ঞান প্রদান নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মাধ্যম হওয়া উচিত। বর্তমান পদ্ধতি যদি বেকারত্ব বাড়ায়, তবে তা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। তিনি দেশের সাম্প্রতিক বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করে, শিক্ষার দিক থেকে তা রোধের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
মন্ত্রীর মতে, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা এখনও চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয় এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, সক্ষম এবং উৎপাদনশীল হতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠানের দাবি থাকলেও, প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বাস্তব কর্মসংস্থান প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত কলেজ খোলার চেয়ে বিদ্যমান কাঠামোকে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী রূপান্তর করা অধিক কার্যকর।
পুনর্গঠন পরিকল্পনার মধ্যে শিক্ষাক্রমে প্রযুক্তি, কারিগরি এবং উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মন্ত্রীর মতে, শীঘ্রই শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হবে, যাতে তা কর্মসংস্থানমুখী, দক্ষতা ভিত্তিক এবং সময়োপযোগী হয়। এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্বের হার কমাবে।
অনুষ্ঠানের ভাষা সংক্রান্ত অংশে মিলন জোর দিয়ে বলেন, বাংলা মাতৃভাষা হিসেবে তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাতৃভাষা আমাদের চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান মাধ্যম। বাংলার আন্তর্জাতিক ব্যবহারও ব্যাপক, এবং দেশের ভাষা সংরক্ষণে অবদান উল্লেখযোগ্য।
গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ইংরেজি সহ অন্যান্য ভাষার দক্ষতা অপরিহার্য, এ কথায় তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে আয়ত্ত করা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ বাড়াবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় ভাষার সঠিক ব্যবহারও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
মিলন এছাড়াও দেশের জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাষা সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগগুলো সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সামাজিক সংহতি বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং রাঙামাটির কিছু উপজাতির ভাষা সংরক্ষণে নতুন পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রাজ্য মন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন এবং শক্তিশালী শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব বিভাগে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করার কথা বলেন, যাতে দুর্নীতি নির্মূল হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মী দুর্নীতিতে জড়াবে না, এ লক্ষ্য তিনি প্রকাশ করেন এবং এর জন্য স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রেকর্ডিং এবং ত্রৈমাসিক অডিটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ঘাটতি সম্পর্কে উদ্বেগ শোনা যায়। তারা উল্লেখ করেন, অনেক শিক্ষার্থী তত্ত্বগত জ্ঞান রাখলেও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা নেই, ফলে চাকরি পাওয়ার সময় সমস্যার সম্মুখীন হয়। মন্ত্রীর পরিকল্পিত পুনর্গঠন এই ফাঁক পূরণে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়াবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এখন সময় এসেছে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বেছে নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সহজ হয়। আপনি কি আপনার পড়াশোনাকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে প্রস্তুত?



