কুমিল্লা জেলায় আজ শনিবার দুপুরে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক-সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কুমিল্লা বিভাগ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কুমিল্লা বিভাগ পাওয়ার যোগ্য এবং অধিকাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে; কিছু জায়গায় মাত্র সামান্য বাধা রয়েছে।
মন্ত্রীর মতে, কুমিল্লা বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়ায় বাকি থাকা কাজগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে এবং সরকার এই লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেবে। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন এবং তখন থেকেই কুমিল্লার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
বিএনপি সরকারের সমর্থনে কুমিল্লাকে পুনরায় ব্যাংক, ট্যাংক ও শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব, আমি কাজ করব। কুমিল্লার উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন, আমি তা করার চেষ্টা করব।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে কুমিল্লার ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সরকার উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, এ কথায় মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে ভবিষ্যতে বাকস্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও ন্যায়ভিত্তিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য কৃষি, শিক্ষা, শিল্পসহ সব খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির কথা মন্ত্রী বলেন। তিনি বলেন, “কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা আমি স্থাপন করেছিলাম। আজ কুমিল্লায় শিল্পের যে বিস্তার হয়েছে, সেটাকে শিল্পবিপ্লব বললেও ভুল হবে না।” এই বিবৃতি কুমিল্লার শিল্পক্ষেত্রের দ্রুত বিকাশকে নির্দেশ করে।
কুমিল্লার কৃষি ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করতে কৃষকবান্ধব নীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী নিজে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মাঠের বাস্তবতা জানেন, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব নীতি সারা দেশের কৃষি উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করবে।
গোমতী নদীকে সম্ভাবনার সোনার খনি হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, “এটিকে কাজে লাগাতে হবে।” নদীর সুবিধা ব্যবহার করে কৃষি ও শিল্প উভয়ের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা আলোচনা চলছে। এছাড়া কুমিল্লায় সবজি ও ডিম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং শীঘ্রই কাজ শুরু করার আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রী জানান, তিনি পূর্বে এমপি হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী কুমিল্লার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন মন্ত্রী পদে থাকায় তিনি একই দায়িত্ব পালন করে আরও বৃহত্তর প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।
কুমিল্লা বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সমর্থন ও বিরোধিতার দিক থেকে দেখা যায়, বিরোধী দলও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা কুমিল্লার প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী ধাপে কুমিল্লা বিভাগ গঠনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন হবে। মন্ত্রীর মন্তব্য অনুযায়ী, এই সব ধাপের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সময়মতো প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।
সারসংক্ষেপে, মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কুমিল্লা বিভাগ গঠনের জন্য বাকি থাকা কাজগুলো দ্রুত সমাধান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন কুমিল্লার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



