স্কাই স্টেডিয়াম, ওয়েলিংটনে শনিবার অনুষ্ঠিত এ-লিগের ম্যাচে অকল্যান্ড এফসি ৫-০ বড় পার্থক্যে জয়লাভ করে। হোস্ট দল ফিনিক্সের গোলকিপার জোশ ওলুয়ায়েমি ২৪তম মিনিটে নিজের জালে বল পাঠিয়ে দলের পতনের সূচনা করেন, যা পরবর্তী সময়ে কোচ গিয়ানকার্লো ইতালিয়ানোর পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ওলুয়ায়েমি নিজের গোলের মুহূর্তটি ঘটেছিল যখন অকল্যান্ডের জেক গার্ডউড-রেইচ প্রায় ৭৫ মিটার দূর থেকে বলকে দূরে পাঠায়। গার্ডউড-রেইচের ক্লিয়ারেন্সের উচ্চতা ও দিক সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারায় গোলকিপারকে পিছনে সরে যেতে হয়, আর ভুল দিকের গতি তাকে নিজের নেটের দিকে ঠেলে দেয়।
বলে গার্ডউড-রেইচের ক্লিয়ারেন্সের পরে ওলুয়ায়েমি দ্রুত পেছনে ফিরে বলটি ধরতে চাইলেন, তবে বাতাসের প্রভাব বা বলের বক্রতা সঠিকভাবে বুঝতে না পারায় তিনি পা দিয়ে বলটি নিজের গলপোস্টের দিকে ঠেলে দিলেন। এই স্বয়ংক্রিয় গোলটি ম্যাচের প্রথমার্ধে ফিনিক্সের আত্মবিশ্বাসকে নষ্ট করে, এবং দলটি দ্রুতই গেমের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।
ম্যাচের অর্ধেক সময়ে ফিনিক্সের কোচ ইতালিয়ানো ওলুয়ায়েমিকে পরিবর্তন করে আলবি কেলি-হিল্ডকে গোলকিপার হিসেবে পাঠালেন। পরিবর্তনের পরেও দলটি শূন্য গোলের শিকার হয়ে রইল, এবং অকল্যান্ডের আক্রমণাত্মক চাপ বাড়তে থাকে।
অর্ধ-সময়ের পরপরই ইতালিয়ানো মিডিয়া রুমে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে জানালেন যে তিনি তৎক্ষণাৎ কোচিং দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বাড়িতে ৫-০ পরাজয় গ্রহণযোগ্য নয়, আমি সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছি এবং ক্লাবকে জানিয়েছি যে আমি পদত্যাগ করছি।” এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্লাবের ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড়দের নতুন উদ্যমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ইতালিয়ানোর ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানানো যায় যে তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং গত সাত বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে কাজ করছেন। তিনি পূর্বে উফুক তালয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ফিনিক্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার প্রথম মৌসুমে দলটি দ্বিতীয় স্থানে শেষ করলেও, পরের মৌসুমে দলটি ১১তম স্থানে নেমে আসে এবং বর্তমানে দশম স্থানে রয়েছে, যেখানে শেষ পাঁচটি ম্যাচে কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি।
ফিনিক্সের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, দলটি ধারাবাহিকভাবে জয় না পেয়ে রেজাল্টে পতন ঘটাচ্ছে। ইতালিয়ানো তার পদত্যাগের মাধ্যমে দলের পুনর্গঠন ও নতুন শক্তি সঞ্চার করার আশা প্রকাশ করেছেন।
অকল্যান্ডের আক্রমণাত্মক কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। অকল্যান্ডের শুটিং প্রচেষ্টা সীমিত থাকলেও, তারা মাত্র তিনটি শটকে লক্ষ্যবস্তুতে রূপান্তর করতে পেরেছে, তবু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকীয় ত্রুটির সুবিধা নিয়ে তারা পাঁচটি গোল করে ম্যাচটি শেষ করেছে।
এই ফলাফলের পরে লিগের টেবিলে অকল্যান্ডের অবস্থান শক্তিশালী হয়, আর ফিনিক্সের অবস্থান আরও নিচের দিকে সরে যায়। ইতালিয়ানোর পদত্যাগের ফলে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা শীঘ্রই নতুন কোচের সন্ধান শুরু করবে, যা দলের পরবর্তী পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত।
ম্যাচের পর ক্লাবের অফিসিয়াল ঘোষণায় বলা হয়েছে যে নতুন কোচের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং দলটি শীঘ্রই প্রশিক্ষণ সেশনে ফিরে যাবে। ফিনিক্সের খেলোয়াড়রা নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুনরায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।
সারসংক্ষেপে, স্কাই স্টেডিয়ামে অকল্যান্ডের বিশাল জয়, ওলুয়ায়েমির নিজস্ব গোল এবং ইতালিয়ানোর তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ একসাথে ফুটবল জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে ফিনিক্সের পুনর্গঠন ও অকল্যান্ডের ধারাবাহিকতা কীভাবে বিকশিত হবে, তা পরবর্তী রাউন্ডে স্পষ্ট হবে।



