31.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইফতেখারুজ্জামান একুশের চেতনা ও মাতৃভাষা অধিকারকে কেন্দ্র করে ভাষা শোকসভা শেষ করেন

ইফতেখারুজ্জামান একুশের চেতনা ও মাতৃভাষা অধিকারকে কেন্দ্র করে ভাষা শোকসভা শেষ করেন

২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শোকসভা শেষে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে “একুশের চেতনা” প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই চেতনা দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতাকে পরাস্ত করে, সকল নাগরিকের সমান মাতৃভাষা চর্চার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

শোকসভা শুরু হয় শহীদ মিনারের সামনে সাদা ফুল আর সাদা ধ্বজা দিয়ে, যেখানে উপস্থিত সাংবাদিক, নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়। শোকের মুহূর্তে জাতীয় সঙ্গীতের সুরে দেশপ্রেমের আবেগ জাগে, এরপর ড. ইফতেখারুজ্জামান মঞ্চে উঠে তার বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল “একুশের চেতনা”—একটি নীতি যা কেবল ভাষা সংরক্ষণ নয়, বরং দেশের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাতৃভাষা সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে গৃহীত হলে, সামাজিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির শিকড় কাটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, একুশের চেতনার মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিটি মানুষের নিজস্ব মাতৃভাষা ব্যবহার করার সমান অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। তিনি বলেন, ভাষা কোনো জাতীয়তাবাদী সীমানা নয়; এটি ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ, যা সবার জন্য সমানভাবে রক্ষিত হওয়া দরকার।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নামের উৎপত্তি সম্পর্কে তিনি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেন, যে এই দিনটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মরণে গৃহীত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ভাষা বৈচিত্র্যের সুরক্ষা ও প্রচারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত। তার মতে, এই ঐতিহাসিক পটভূমি আজকের সময়ে আরও বেশি গুরুত্ব পায়, যখন ভাষা সংক্রান্ত অধিকারগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সূচক হিসেবে দেখা হয়।

বক্তব্যের পর কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীও ভাষা সংরক্ষণ ও মাতৃভাষা অধিকারকে জাতীয় অগ্রগতির মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেছে। বিরোধী দলগুলো ড. ইফতেখারুজ্জামানের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, সরকারকে ভাষা নীতি প্রণয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, কিছু গোষ্ঠী ধর্মীয় চরমপন্থার বিরোধিতা করে, সমাজে ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, একুশের চেতনা যদি সরকারী নীতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে শিক্ষা, মিডিয়া ও পাবলিক সেবায় ভাষা সমতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন আইন প্রণয়ন হতে পারে। এছাড়া, দুর্নীতি মোকাবেলায় স্বচ্ছতা বাড়াতে স্বতন্ত্র তদারকি সংস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এইসব পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে, যা নাগরিকদের অধিকারের সুরক্ষা ও সামাজিক সংহতি বাড়াবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান শেষ করে বলেন, মাতৃভাষা চর্চার সমান অধিকার নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একুশের চেতনার মূল লক্ষ্য নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের ভিত্তি। তিনি সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আদর্শকে বাস্তবায়ন করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments