ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা গত রাত ২ টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে একটি জরুরি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, যদি বিএনপি তার স্থানীয় স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না রাখে, তবে দলের সুনাম ও সরকারের স্থিতিশীলতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২১শে মার্চের প্রথম প্রহরে রুমিনের দল সরাইল উপজেলা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয়। এই বাধা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি হওয়া শুরু হয়।
বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় নেতা রুমিনের প্রতি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান তোলার মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও তীব্র করে। স্লোগানগুলোকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে অশান্তি ছড়িয়ে দেয়।
ধস্তাধস্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রুমিনের পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলা পর্যন্ত যায়। এই ঘটনার ফলে শহীদ মিনার এলাকা থেকে রুমিন ও তার সমর্থকরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রহরায় স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
রুমিন ফারহানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, “আমি এটুকুই বলব যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতাকর্মীদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না করে এখনই, এর পরিণতি ভয়াবহ রকমের হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ধরনের হিংস্রতা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যেহেতু দীর্ঘ ১৫ বছর, একটা লম্বা সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা নানানভাবে চাপে ছিল, লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে, তারা যখন এরকম একটা ভয়ঙ্কর হিংস্রতা নিয়ে রাজনৈতিক পদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে, এটা আমার মনে হয় দলের উঁচু পর্যায় থেকে বিষয়টি মনিটর করা উচিত।” রুমিনের মতে, এই আচরণ দলীয় শৃঙ্খলা ও জনমতকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
রুমিনের সতর্কতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, এটা দলের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর হবে। সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে। সরকার মাত্রই এসেছে। আমি আশা করবো বিএনপি সরকার এবং দল হিসেবে এ ধরনের উশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের ব্যাপারে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেবে।” তিনি সরকারের নতুনত্বের সঙ্গে দলের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিএনপি ‘বিদ্রেহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত রুমিন ফারহানা বলেন, “ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমিই সবচেয়ে আগে ফুল দেব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা গেলো যে, বিএনপির কিছু লোক রীতিমতো হামলা চালায় আমার নেতাকর্মীদের ওপর। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়।” তিনি এই ঘটনাকে পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
অধিকন্তু রুমিন যোগ করেন, “এ হামলাটি একেবারেই পরিকল্পিত। গুণ্ডা প্রকৃতির একটা লোকের নেতৃত্বে কিছু উশৃঙ্খল ছেলে হামলা চালায়। তাদের পরাজয় মেনে নেয়ার একটা কষ্ট আছে। আমি স্বতন্ত্র জিতে গেছি। ওনারা কোটি কোটি টাকার লেনদেন করেও”। তার মতে, এই ধরনের হিংস্রতা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভাঙতে পারে এবং ভোটারদের আস্থা হারাতে পারে।
এই ঘটনার পর রুমিনের দাবি স্পষ্ট: স্থানীয় স্তরে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, নতুবা দলীয় গঠন ও সরকারের নীতি বাস্তবায়নে বড় বাধা সৃষ্টি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি সরকার ও পার্টি উভয়ই এই ধরনের উশৃঙ্খল আচরণকে দমন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
শহীদ মিনার ঘিরে সংঘটিত এই ঘটনা স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং রুমিনের সতর্কবার্তা দলীয় শৃঙ্খলা ও সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে তা নির্বাচনী ফলাফল ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



