শুক্রবার সকাল আটটায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ক্যাম্পাসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সমন্বিত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ভাষা সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।
হাফিজ ভাষাকে নদীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ভাষা যেন সহজে বোধগম্য হয় তেমনি আমাদের ব্যবহারেও তা স্বাভাবিক হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি শব্দের ব্যবহার কমিয়ে বাংলা ভাষাকে আরও প্রাণবন্ত করতে হবে। এই বক্তব্যের সময় তিনি ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরেন।
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়েছে; জাতিসংঘের মাধ্যমে ২০০টিরও বেশি দেশে এই দিনটি উদযাপিত হয়। হাফিজের মতে, এই অর্জন পূর্বপুরুষদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, এবং আজকের বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় সংকটে দাঁড়াতে হবে।
প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আলোকে তিনি বলেন, বাংলা ভাষার সীমাবদ্ধতা দূর করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব, ফলে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিভাষার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ভাষা আন্দোলনের সময় তরুণদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বয়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে আজকের দেশ গড়ার কৃতিত্ব মূলত তরুণদেরই।
শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা ভাঙতে তরুণরা রক্তের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এনেছে, তা নতুন গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে। হাফিজের মতে, এখন এমন একটি সময় যখন বৈষম্য ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য তরুণদের মেধা লালন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. এ বি এম শওকত আলীও ভাষা আন্দোলনের শিহরণে কথা বলেন। তিনি রফিক, জব্বার, সালামকে স্মরণ করে বলেন, যদিও তারা শারীরিকভাবে নেই, তবে তাদের আত্মা ভাষার মাধ্যমে বেঁচে আছে। আলী বাংলা ভাষার গর্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয় আমাদের সংস্কৃতির গৌরব, এবং ভবিষ্যতে বাংলা দিয়ে বিশ্ব জয় করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
ইভেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘বাইট বিল্ডারস’ নামের সফটওয়্যারের উদ্বোধন, যা বিইউবিটি শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে। এই সফটওয়্যারটি রোবটিক্স শিক্ষাকে বাংলা সহ অন্যান্য ভাষায় সহজলভ্য করবে এবং ৩ মে বাজারে মুক্তি পাবে। সফটওয়্যারটি শহীদ ওসমান হাদিরের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্ডার করা যাবে।
সফটওয়্যার উদ্বোধনের আগে ক্যাম্পাসে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি শহীদ মিনারে শেষ হয়ে, অংশগ্রহণকারীরা ভাষা ও শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে একত্রিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি ভাষা সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সমন্বয়কে তুলে ধরেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের পাঠক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: বাংলা ভাষায় প্রযুক্তিগত বিষয় শিখতে চাইলে স্থানীয় ভাষা সমর্থনকারী সফটওয়্যার ও অনলাইন কোর্স ব্যবহার করুন, এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলা ভিত্তিক প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভাষা দক্ষতা বাড়াতে পারেন।



