বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী শফিকুর রহমান আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মানসূচক ফুলদানী করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর ৭৪ বছর পর প্রথমবারের মতো জামায়াতের নেতা শফিকুর রহমান ও তার বিরোধী জোটের সদস্যরা ঐতিহাসিক স্মারকটিতে শোভাযাত্রা করেন।
শফিকুর রহমানের উপস্থিতি রাজনৈতিক ও সামাজিক বৃত্তে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের প্রোটোকল অনুসরণ এবং বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্যই তিনি এই সফরটি করেছেন। এটাই তিনি ‘সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিরোধী জোটের অন্যান্য দলগুলো পূর্বে র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে ভাষা দিবস উদযাপন করলেও, শফিকুরের মতো শহীদ মিনারে সরাসরি ফুলদানী করা কখনো দেখা যায়নি। আজ তিনি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের পরেই শহীদ মিনারে গিয়ে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করেন।
ফুলদানি শেষে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শফিকুর যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে জামায়াতের মধ্যে এখনও ফুলদানীকে ‘নাজায়েজ’ হিসেবে গণ্য করা হয় কিনা, তিনি প্রশ্নের সময়ের গুরুত্ব উল্লেখ করে এ ধরনের প্রশ্ন না করার পরামর্শ দেন।
শফিকুরের মন্তব্যে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি ১৯৪৭, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় শহীদদের স্মরণ করার কথা বলেন। তিনি বিশেষ করে ১৫.৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি’র নাম উল্লেখ করেন।
এই সফরটি বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। শফিকুরের উপস্থিতি ও ফুলদানী সরকারী নেতাদের পরেই হওয়ায় জামায়াতের জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ পায়। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই পদক্ষেপটি জামায়াতের ভোটার ভিত্তি বিস্তারে সহায়তা করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে পার্টির চিত্র উন্নত করতে পারে।
অন্যদিকে, শফিকুরের এই কাজের প্রতি কিছু সমালোচকও আছেন, যারা দাবি করছেন যে পার্টির ঐতিহ্যগত মতবাদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবু শফিকুরের মতে, শহীদ মিনারে উপস্থিতি ও ফুলদানী করা রাষ্ট্রের শিষ্টাচার অনুসরণ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
শহীদ মিনারে শফিকুরের এই ঐতিহাসিক সফরটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলো যোগ করেছে। ভবিষ্যতে জামায়াতের নেতৃত্ব কীভাবে এই পদক্ষেপকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াবে, তা সময়ই বলবে। তবে এখন পর্যন্ত, শফিকুরের এই কাজটি জাতীয় স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ চিত্র তুলে ধরেছে।



