শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো শনিবার অফিস চালু করেন। তিনি সরকারকে সপ্তাহের ছুটির দিনেও কাজের গতি বাড়াতে এবং জনসেবার সময়সীমা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নের জন্য তেজগাঁও অফিসে উপস্থিত হন।
প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে পতাকাবিহীন গাড়িতে অফিসে পৌঁছান, যা নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে জানানো হয়েছে। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা দল দ্রুত গাড়ি থেকে তাকে বের করে অফিসের প্রধান প্রবেশদ্বার পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়িক বৈঠকে সরকারী কাজের দ্রুততা নিশ্চিত করতে সপ্তাহান্তে অফিস চালু করার অনুমোদন দেয়া হয়। একই দিনে তারেক রহমান শপথ গ্রহণের পর, তিনি এই সিদ্ধান্তকে তার শাসনকালের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে প্রকাশ করেন। শপথ গ্রহণের পূর্বে তিনি সচিবালয়ে দফতরিক কাজ করলেও তেজগাঁও পিএমও-তে প্রথমবারের মতো কাজ করার সুযোগ পান। এই পদক্ষেপটি সরকারী নথি প্রক্রিয়াকরণ এবং নীতি বাস্তবায়নের সময় কমাতে লক্ষ্য করে।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসে পৌঁছানোর সময়, ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রী, অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে, সপ্তাহান্তে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণের পরিকল্পনা শেয়ার করেন। এছাড়া, উচ্চপদস্থ সিভিল সার্ভেন্টদের দলও উপস্থিত ছিল, যারা অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
সরকারের মতে, সপ্তাহের ছুটির দিনেও অফিস চালু করা কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে নাগরিকদের সেবা দ্রুততর করবে। তেজগাঁও পিএমও-তে কাজের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া, বাজেট অনুমোদন এবং জরুরি নীতি সিদ্ধান্তের গতি ত্বরান্বিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, এই মডেলটি অন্যান্য সরকারি দফতরে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই উদ্যোগকে সরকারি সেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা, বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে একই তেজগাঁও অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই ঐতিহাসিক সংযোগকে সরকারী কর্মস্থলের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সপ্তাহান্তে অফিস চালু করা হয়নি, যা বর্তমান পদক্ষেপকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা করে।
বিএনপি নেতারা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সমালোচনা করে, বলেন যে সপ্তাহান্তে অফিস চালু করা মূলত জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রচেষ্টা। তারা দাবি করেন, বাস্তবিক কাজের গতি বাড়বে কিনা তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপকে সমর্থন করা কঠিন। এছাড়া, কর্মচারীর কাজের সময় ও শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগও উত্থাপিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি তেজগাঁও পিএমও-তে সপ্তাহান্তে কাজের রুটিন সফল হয়, তবে সরকারী সেবা প্রদান এবং নীতি বাস্তবায়নে সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে এই মডেলটি বজায় রাখতে অতিরিক্ত মানবসম্পদ ও বাজেটের প্রয়োজন হতে পারে। সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষই এই নতুন রুটিনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
সপ্তাহান্তে অফিস চালু করার এই প্রথম পদক্ষেপটি আগামী সপ্তাহে কীভাবে কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয়। তেজগাঁও পিএমও-তে এই নতুন কাজের পদ্ধতি সরকারী কার্যক্রমের গতি বাড়াবে কিনা, তা সময়ই বলবে।



