রামল্লা শহরের নিকটবর্তী পশ্চিম তীরের মুকমাস গ্রামে ১৯ বছর বয়সী নাসরাল্লাহ আবু সিয়ামের গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনার ফলে তার পরিবার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে জবাবদিহিতার দাবি তীব্রতর হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় গ্রামবাসীরা সশস্ত্র বসতিবাদী দলের গবাদি পশু চুরি প্রতিরোধে সংগ্রাম করার সময়, উভয় পক্ষের মধ্যে পাথর নিক্ষেপের ঝগড়া ঘটায় এবং বসতিবাদীরা অন্তত তিনজন গ্রামবাসীর দিকে গুলি চালায়, যার মধ্যে সিয়ামও অন্তর্ভুক্ত। গুলির আঘাতে তার প্রাণ ত্যাগ করে, যা গত দুই বছরে ইসরায়েলি বসতিবাদী বা সৈন্যদের হাতে নিহত আমেরিকান নাগরিকের সংখ্যা ছয় করে বাড়িয়ে দেয়।
আবু সিয়াম ফিলাডেলফিয়ায় জন্মগ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। তার পরিবার জানায়, তিনি মুকমাস গ্রাম থেকে প্রায় ত্রিশজনের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে গবাদি পশু চুরি রোধে অংশগ্রহণ করছিলেন। ঘটনাস্থলে শোনা যায়, গ্রামবাসী ও বসতিবাদী উভয়ই পাথর নিক্ষেপ করছিল, ফলে উত্তেজনা বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত গুলি চালানো হয়। গুলির ফলে সিয়াম মৃত্যুবরণ করেন, অন্য দুইজন গ্রামবাসীরও গুরুতর আঘাত হয়।
পরিবারের কাছের আত্মীয় আবদুলহামিদ সিয়াম ঘটনাটিকে “একটি বিশাল ক্ষতি” বলে উল্লেখ করেন এবং পশ্চিম তীরে বসতিবাদীদের অপরাধমূলক কাজের প্রতি কোনো দায়িত্ব নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে শীতল রক্তে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং তা সম্পূর্ণ দায়িত্বহীনতার উদাহরণ। এই মন্তব্যগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ঘটনাটির পর কনসুলার সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে, তবে বসতিবাদী হিংসা রোধে নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। প্রশাসনের এই প্রতিক্রিয়ার পরেও, বসতিবাদী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত ব্যর্থতা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সময়ে, ট্রাম্প সরকারকে বায়ডেন-যুগের বসতিবাদী নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার জন্য মানবাধিকার গোষ্ঠী থেকে সমালোচনা করা হয়েছে, যা বসতিবাদীদের অপরাধমূলক কাজের জন্য শাস্তি কমিয়ে দেয়।
ইসরায়েলি দূতাবাস ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে ঘটনাটিকে পর্যালোচনাাধীন বলে জানিয়ে, দ্রুত একটি অপারেশনাল তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র উল্লেখ করেন, সৈন্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অশান্তি দমনকারী সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। তবে, আইডিএফের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলির কোনো অংশ আইডিএফের গুলিবর্ষণ থেকে ঘটেনি। তদন্তের পাশাপাশি, সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি ও আমেরিকান কর্তৃপক্ষের এই প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত আলোচনার সূত্রপাত করেছে। গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর বসতিবাদী বা ইসরায়েলি সৈন্যের গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনা ছয়বার ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘটনাটির তথ্য জানার পর পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে কনসুলার সহায়তা প্রদান করার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। তবে, পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে, কেবল পর্যবেক্ষণ নয়, বসতিবাদী হিংসার মূল কারণগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি পশ্চিম তীরে বসতিবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম ও তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের দিকে ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করবে, তা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।



