টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ব্যাংক দলের স্পিনার সাকিব আল হাসান ৫০টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ শটলারের খিতাব ধরে রেখেছেন। তার পরেই অ্যাডাম জাম্পা ৪৪টি এবং রশিদ খান ৪৩টি উইকেট নিয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছেন, তবে দুজনই টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হতে পারেননি।
রশিদ খানের আফগানিস্তান ও জাম্পার অস্ট্রেলিয়া উভয়ই সুপার এইটে পৌঁছাতে পারেনি, ফলে তাদের উইকেট সংখ্যা বাড়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার লেগ‑স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা দলের সুপার এইটে অগ্রসর হওয়া সত্ত্বেও হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, ফলে তার ক্যাম্পেইন শেষ হয়ে যায়।
হাসারাঙ্গা প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন, যা শুরুর দিকে তার পারফরম্যান্সকে উজ্জ্বল করে তুলেছিল। তবে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার উইকেট সংখ্যা স্থবির হয়ে ৪০‑এ পৌঁছায়। অন্যদিকে জাম্পা ওমানের বিপক্ষে ৪টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ৪৪টি উইকেট সংগ্রহ করেন, যা সাকিবের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তিনি টুর্নামেন্ট শুরুতে ৩৬টি উইকেট নিয়ে গেমে প্রবেশ করেন।
রশিদ খান চারটি ম্যাচে মাত্র ৬টি উইকেট নিলেও, তার মোট ৪৩টি উইকেটের সঙ্গে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শীর্ষ তিন শটলারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। টুর্নামেন্টে বাকি থাকা বোলারদের মধ্যে সাকিবকে ছুঁতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের আনরিখ নরকিয়া এবং ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ, দুজনেরই এখন পর্যন্ত ৩৭টি উইকেট রয়েছে।
আদিল রশিদ ইংল্যান্ডের মূল স্পিনার, তিনি চারটি ম্যাচে ৬টি উইকেট নেন। ইংল্যান্ড যদি ফাইনালে পৌঁছায়, তবে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচটি অতিরিক্ত ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন, যার জন্য তাকে সাকিবের ৫০টি উইকেট অতিক্রম করতে অতিরিক্ত ১৪টি উইকেট সংগ্রহ করতে হবে, যা বাস্তবে কঠিন বলে বিবেচিত। আনরিখ নরকিয়া একমাত্র ম্যাচে দুইটি উইকেট নেন; তার জন্যও সমান শর্ত প্রযোজ্য, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এ যদি ফাইনালে পৌঁছায়, তবে তার অংশগ্রহণের সংখ্যা অনিশ্চিত।
এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা যায়, সাকিব আল হাসান টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন। তার শীর্ষস্থান বজায় রাখতে অন্য বোলারদের অতিরিক্ত পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হবে, যা এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে কোন দল ফাইনালে পৌঁছাবে তা এখনও নির্ধারিত নয়, তবে সাকিবের রেকর্ডে কোনো হুমকি দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক দলটি টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য কী কৌশল অবলম্বন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সাকিবের শটলিং পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, সাকিবের দলকে শীর্ষ শটলারের শিরোপা রক্ষা করতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।



