মুম্বাইয়ের জোগেশ্বরী এলাকায় হিন্দি-ফিল্মের পরিচিত অভিনেতা ও প্রযোজক আরবাজ খান প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকায় একটি উচ্চমানের অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা গ্রহণ করেছেন। লেনদেনটি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রেজিস্টার করা হয়েছে এবং রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি সহ মোট খরচ উল্লেখযোগ্য।
এই সম্পত্তি ১,২৪৩ বর্গফুটের রেরা কার্পেট এরিয়া নিয়ে গঠিত এবং ভবনের ২৭তম তলায় অবস্থিত। ভবনের নাম অটোগ্রাফ রেসিডেন্সি, যা লিংক রোডের পাশে নির্মাণাধীন একটি আধুনিক রেসিডেন্সিয়াল প্রকল্প।
অ্যাপার্টমেন্টটি মুটিস্টার বিল্ডার্স এলএলপি থেকে ক্রয় করা হয়েছে এবং প্রতি বর্গফুটে ২২,০০০ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছে। এই মূল্যের ভিত্তিতে মোট লেনদেনের মূল্য ২.৭৮ কোটি টাকার কাছাকাছি নির্ধারিত হয়েছে।
সম্পত্তির সঙ্গে দুইটি নিবেদিত পার্কিং স্পেসও অন্তর্ভুক্ত, যা শহরের ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং সমস্যার সমাধান হিসেবে মূল্যবান বলে বিবেচিত। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় ১৬ লক্ষ টাকার বেশি স্ট্যাম্প ডিউটি এবং ৩০,০০০ টাকার রেজিস্ট্রেশন চার্জ প্রদান করা হয়েছে।
অটোগ্রাফ রেসিডেন্সি বর্তমানে নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং সম্পূর্ণ হওয়ার পর দিক্সেম্বর ২০৩০ সালে মালিকদের হস্তান্তর করা হবে বলে পরিকল্পনা। ভবনের ডিজাইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুবিধা সমূহকে কেন্দ্র করে বিক্রয় দল প্রচার চালাচ্ছে।
জোগেশ্বরী সম্প্রতি মুম্বাইয়ের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান উপশহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে; এখানে মেট্রো, বাস ও রেল সংযোগের উন্নতি বাসিন্দাদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া, লিংক রোডের কাছাকাছি অবস্থান থাকায় শপিং সেন্টার, রেস্টুরেন্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহজলভ্য।
অটোগ্রাফ রেসিডেন্সি প্রকল্পটি ৩৫ তলা পর্যন্ত উচ্চতা, জিম, সুইমিং পুল, কমিউনিটি হল এবং ২৪/৭ নিরাপত্তা সিস্টেমের মতো সুবিধা প্রদান করে। উচ্চমানের ফিনিশিং ও ভিউ পয়েন্টকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে।
মুম্বাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজারে প্রতি বর্গফুটে ২২,০০০ টাকার দাম বর্তমানে প্রিমিয়াম সেগমেন্টে গন্য হয়; একই এলাকায় সমমানের প্রকল্পের দাম প্রায় ২০,০০০ থেকে ২৪,০০০ টাকার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। তাই আরবাজের এই বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধি সম্ভাবনা সম্পন্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিনয় জগতে আরবাজ খান হিন্দি, তেলেগু, উর্দু ও মালয়ালম চলচ্চিত্রে কাজ করে বহুমুখী পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তিনি অভিনেতা ছাড়াও প্রযোজক হিসেবে বহু হিট ফিল্মের পেছনে ছিলেন এবং রিয়ালিটি শো ও চ্যাট শোয়ের হোস্টিং করেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
২০১৯ সালে তিনি ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেন, যা তার ক্যারিয়ারে নতুন দিক যোগ করে। এই পদক্ষেপ তাকে তরুণ দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করেছে এবং স্ট্রিমিং সেবার উত্থানকে কাজে লাগাতে সক্ষম করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে আরবাজ ২০২৫ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী সশুরা খান সঙ্গে একটি মেয়ের জন্মের মাধ্যমে পিতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেন। পূর্বে তিনি মলায়কা অরোয়ার সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন; তাদের ২৩ বছর বয়সী পুত্র আরহান ২০১৭ সালে আলাদা হওয়ার পর থেকে তার একমাত্র সন্তান।
বোলিভুডের অন্যান্য তারকাদের মতো আরবাজও মুম্বাইয়ের উচ্চমানের রেসিডেন্সিয়াল প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছেন; এই প্রবণতা শহরের রিয়েল এস্টেট বাজারে স্থায়ী চাহিদা ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে। উচ্চতর সুবিধা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা এই ধরনের বিনিয়োগকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।



