মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্লোবাল শুল্কবিধি বাতিলের রায় দেয়, যার মধ্যে কানাডিয়ান সরকার, চীন ও মেক্সিকোর ওপর আরোপিত “ফেনটানিল” শুল্কও অন্তর্ভুক্ত। রায়ের পর কানাডায় স্বল্প সময়ের উদযাপন দেখা গেল, তবে তা তীব্র নয় এবং দ্রুত নিঃশেষ হয়ে গেল।
কানাডিয়ান সরকারকে প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক টুইটারে জানিয়েছেন যে এই রায় কানাডার শুল্কবিরোধী অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে, কারণ শুল্কগুলোকে “অন্যায়” বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে মার্কিন আদালতের এই সিদ্ধান্ত কানাডির বাণিজ্য নীতি সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লেব্লাঙ্ক উল্লেখ করেছেন যে ওয়াশিংটন থেকে এখনও স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি শিল্পে শুল্ক বজায় থাকবে, যা কানাডির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এই সেক্টরগুলোতে শুল্কের প্রভাব মোকাবিলার জন্য কানাডিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়া কানাডি-আমেরিকান-মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তি (USMCA) এর পুনর্মূল্যায়নও আসন্ন, যা ৫ কোটি মানুষের বাজারকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং উত্তর আমেরিকায় অর্থনৈতিক সংহতি বজায় রাখার মূল ভিত্তি। লেব্লাঙ্ক জোর দিয়ে বলেছেন যে চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই রিভিউ গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সরাসরি প্রভাব কানাডিয়ান শুল্কে সীমিত, কারণ গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেছিল, পরে তা ৩৫% বাড়ানো হয়। শুল্কের মূল যুক্তি ছিল উভয় দেশের অভিবাসন প্রবাহ ও অবৈধ ড্রাগ ফেনটানিলের প্রবাহ রোধ করা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্কের যুক্তি হিসেবে উভয় দেশের অভিবাসন ও অবৈধ ড্রাগ ফেনটানিলের প্রবাহ রোধের দাবি করেন, যা তিনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। তবে এই দাবির বিরোধে কানাডিয়ান সরকার শুল্ককে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছে।
তবে USMCA এর বিশেষ ছাড়ের ফলে এই “ফেনটানিল” শুল্কের আওতায় আসা প্রায় ৮৫% বাণিজ্য ইতিমধ্যে শুল্কমুক্ত ছিল, ফলে বাস্তবে শুল্কের প্রভাব সীমিত রয়ে গেছে। এই ছাড়ের অস্তিত্বই রায়ের পর শুল্কের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে।
লেব্লাঙ্কের দপ্তর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) এর অধীনে আরোপিত ১০% গ্লোবাল শুল্ক সম্পর্কে মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন, যদিও এই শুল্কটি পূর্বের শুল্কের পরিবর্তে প্রস্তাবিত ছিল। সরকার এই নতুন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে।
হোয়াইট হাউসের মতে, নতুন ১০% শুল্কের অধীনে USMCA ছাড় বজায় থাকবে এবং তা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। তাই কানাডিয়ান রপ্তানি ব্যবসায়ীরা এই পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে।
স্টিল ও গাড়ি সহ কিছু সেক্টরে শুল্ক এখনও রয়ে গেছে, যা কানাডির বাণিজ্য নীতির প্রধান উদ্বেগ। বিশেষ করে গাড়ি শিল্পে শুল্কের ধারাবাহিকতা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
USMCA রিভিউতে গ্রীষ্মে তিন দেশের সরকারকে চুক্তি বাড়িয়ে রাখবে কিনা তা সিদ্ধান্ত নিতে হবে; এই চুক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে গঠিত এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুর থেকে উত্তর আমেরিকায় অর্থনৈতিক সংহতি বাড়িয়ে এসেছে। রিভিউয়ের ফলাফল চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো, সংশোধন বা নতুন আলোচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মেক্সিকোর প্রেসে লেব্লাঙ্ক জানান, কানাডি ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ত্রিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে চুক্তির স্থিতিশীলতা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
শীঘ্রই শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি USMCA রিভিউয়ের ফলাফল কানাডিয়ান সরকারের বাণিজ্য কৌশলকে নির্ধারণ করবে, বিশেষ করে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। এই প্রক্রিয়ায় কানাডি সরকারকে শুল্কের প্রভাব কমাতে এবং চুক্তির সুবিধা সর্বোচ্চ করতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।



