গত রাত ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাষণ দেন। তিনি ‘একুশ’ দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনের অধীনে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা মুক্তি পেয়েছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করেছে বলে জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক ‘একুশ’ অতীতের দমনমূলক শাসনের চিহ্ন বহন করলেও, বর্তমান সময়ে তা স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এই পরিবর্তনকে তিনি নতুন গণতান্ত্রিক শাসনের সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর, যা নির্বাচনের পর তরিক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে, ‘একুশ’ এর এই মুক্তি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘একুশ’ এর মূল চেতনা হল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। এই চেতনা ভিত্তিক নীতিমালা বাস্তবায়নই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার পর জনগণের স্বপ্ন পূরণে সরকারকে ন্যায়বিচার ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘একুশ’ এর ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে সকল স্তরে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিএনপি নেতার মতে, ‘একুশ’ এর আত্মা অনুসরণ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নতুন চেতনা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে সমৃদ্ধ করবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, তিনি এই দায়িত্বকে ‘একুশ’ এর আদর্শের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিএনপি এই মন্তব্যকে পূর্বের শাসনের প্রতি সমালোচনা হিসেবে উপস্থাপন করেছে; তবে সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই পার্থক্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভবিষ্যতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে, ‘একুশ’ এর নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে নীতি নির্ধারণে জনগণের কল্যাণ, ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মনোযোগ দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় করবে।
সংক্ষেপে, শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য ‘একুশ’ এর মুক্তিকে দেশের গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের সূচক হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং নতুন সরকারকে এই আদর্শের ভিত্তিতে নীতি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছে।



