33.3 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসালাহউদ্দিন আহমদ নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কক্সবাজারের ইয়াবা সমস্যার মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ

সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কক্সবাজারের ইয়াবা সমস্যার মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ

কক্সবাজারের টেকনাফ‑উখিয়া সীমান্তে ইয়াবা পাচার অব্যাহত থাকায় নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সীমান্তে প্রতিদিনের চালান, দুই বছর ধরে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে এক লাখের বেশি প্যাকেট জব্দ করা হলেও বাজারে মাদক সরবরাহের প্রবাহে কোনো উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যায়নি।

মুক্তিযোদ্ধা এবং কক্সবাজারের এমপি সালাহউদ্দিন আহমদ, যিনি এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ ও গডফাদারদের সনাক্তকরণে ব্যর্থতা। তাই তার দায়িত্বে থাকা সময়ে সমস্যার সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও টেকনাফ মডেল থানের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সব নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের নৌ-চলাচল, রোহিঙ্গা শিবিরের সন্দেহজনক গতি‑বিধি এবং সীমান্তের মূল রুটগুলোতে নতুন নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় এখন প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে প্রযুক্তি‑নির্ভর ও তথ্য‑ভিত্তিক অপারেশনাল মডেল প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে। টেকনাফ ও নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল‑টাইম নজরদারি, ১২টি প্রধান রুটে মোবাইল ইউনিটের স্থাপন এবং রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে সশস্ত্র উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, মাদক মামলার তদন্তে সিআইডি, মাদক অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ গার্ডের যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের লক্ষ্য হবে গোপন নেটওয়ার্কের কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং গডফাদারদের গ্রেফতার করা।

মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন মডেল পরিবর্তন করা জরুরি। তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি‑নির্ভর পদ্ধতি এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ই একমাত্র কার্যকর সমাধান হতে পারে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল, জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়কালে ইয়াবা প্রবাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জব্দের পরিমাণ বাড়লেও বাজারে সরবরাহের সহজলভ্যতা কমেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান কৌশলগুলোকে পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত সমস্যার মূল সমাধান করা কঠিন হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারী নীতি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, সীমান্তে অবৈধ মাদক প্রবাহ রোধে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তথ্য‑শেয়ারিং এবং যৌথ অপারেশন চালু করা হবে।

কক্সবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, যদিও জব্দের সংখ্যা বাড়ছে, তবু ইয়াবা প্যাকেটের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সরবরাহ সহজ। এ কারণে মাদক ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা কমে যায়নি।

প্রশাসনিক দিক থেকে, নতুন অপারেশনাল মডেল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। ড্রোন ও মোবাইল ইউনিটের জন্য বিশেষ টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হয়েছে এবং রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, কক্সবাজার সীমান্তে ইয়াবা সমস্যার সমাধানে সরকারী উদ্যোগের পরিধি বাড়ছে, তবে বাস্তবায়ন ও ফলাফল এখনও পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। ভবিষ্যতে জব্দের সংখ্যা ও সরবরাহের ভারসাম্য কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments