33.3 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে শত শত মানুষ জলমহাল থেকে মাছ লুটে নিয়েছে

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে শত শত মানুষ জলমহাল থেকে মাছ লুটে নিয়েছে

শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাউয়াজুরি জলমহাল থেকে গত শুক্রবার রাত প্রায় সাতটার পর শত শত গ্রামবাসী অবৈধভাবে মাছ তোলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ইজারাদারদের মতে, এই কার্যক্রমে বহু গ্রাম থেকে মানুষ একত্রিত হয়ে জলমহালের চারপাশে জমা হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আলো জ্বালিয়ে মাছ তোলার কাজ চালিয়ে যায়।

কাউয়াজুরি জলমহালটি এক বছর মেয়াদে গাজীনগর গ্রাম অবস্থিত আঙ্গুর মিয়া ১.৬ মিলিয়ন টাকায় ইজারা নিয়েছেন। ইজারা নেওয়ার পর মিয়া রক্ষণাবেক্ষণ, পোনা মুক্তি, পানির স্তর বজায় রাখা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২.৪ মিলিয়ন টাকা ব্যয় করেছেন। এই জলমহালে ইলিশ, রুই, কাতলা ইত্যাদি মূল্যবান মাছের পোনা ছড়িয়ে রাখা হয়, যা স্থানীয় মাছচাষের মূলধন হিসেবে কাজ করে।

আইন অনুসারে, জলমহালে ন্যূনতম দুই ফুট অর্ধেক (আড়াই ফুট) পানি রাখা বাধ্যতামূলক এবং নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই মাছ আহরণ করা যায়। এই শর্তগুলো লঙ্ঘন করা হলে ইজারাদারকে শাস্তি দেওয়া হতে পারে এবং মাছের ক্ষতি পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আঙ্গুর মিয়া জানান, তিনি বহুদিন ধরে মাছ সংরক্ষণ করে রেখেছেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে মাছ ধরা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে হঠাৎ রাতে বড় সংখ্যক লোকের সমাবেশের ফলে তার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে এবং তিনি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।

শান্তিগঞ্জের কাওয়াজুরী, উফতিরপাড়, লাউগাঙ্গ, দিরাই উপজেলার নগদিপুর, ছোট নগদিপুর, ধীতপুর, ফুকিডর এবং দৌলতপুর গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মানুষগুলো সন্ধ্যা সাতটার পর জলমহালের তীরের কাছে জমায়েত হয়। তারা লাইট জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মাছ তোলার কাজ চালিয়ে যায়, ফলে প্রচুর পরিমাণে মাছ লুটে নেওয়া হয়। এই সময়ে রক্ষাকারীরা জনসমাগমের কারণে হস্তক্ষেপ করতে অক্ষম ছিলেন এবং কোনো বাধা দিতে পারেননি।

আঙ্গুর মিয়া অভিযোগ করেন যে কয়েকটি গ্রাম থেকে সংগঠিত দল পরিকল্পিতভাবে মাছ লুটে নিয়েছে, যার ফলে তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শান্তিগঞ্জ থানা ওসি মো. অলি উল্লাহ জানান, ইজারাদার বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকে এই ঘটনার তথ্য আগে পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু করা হবে। তিনি জানান, স্থানীয় পুলিশ দল এখন ঘটনার স্থান পরিদর্শন, ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাবে।

মাছের চুরি বাংলাদেশে সম্পত্তি হরণ ও সম্পদ চুরির আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিচার করা হবে। এছাড়া, ইজারাদারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কাউয়াজুরি জলমহাল স্থানীয় মাছচাষের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত, যেখানে ইজারাদার ও আশেপাশের গ্রামবাসীরা জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মিয়ার মতে, লুটের ফলে প্রায় তিন লক্ষ টাকার সমতুল্য মাছের ক্ষতি হয়েছে, যা তার আর্থিক পরিকল্পনা ও স্থানীয় কর্মসংস্থানে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে জলমহালের চারপাশে পর্যাপ্ত রক্ষাকর্তা মোতায়েন, নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং ইজারাদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিয়মিত তদারকি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments