33.3 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeব্যবসা২০২৫ সালে বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে শীর্ষে এইচএসবিসি, সিটি ও পূবালী ব্যাংক

২০২৫ সালে বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে শীর্ষে এইচএসবিসি, সিটি ও পূবালী ব্যাংক

২০২৫ সালে বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে দেশি‑বিদেশি সব ব্যাংকের মধ্যে শীর্ষে রইল এইচএসবিসি, যার মোট বাণিজ্য প্রায় সাড়ে নয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পর সিটি ব্যাংক ৮ বিলিয়নের বেশি এবং তৃতীয় স্থানে পূবালী ব্যাংক ৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বাণিজ্য করেছে।

শীর্ষ দশের মধ্যে এইচএসবিসি, সিটি, পূবালী ব্যাংকের পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (বাংলাদেশ), শাহ্জালাল ইসলামী, ইউসিবি, ব্র্যাক, ইস্টার্ন, ইসলামী ও সাউথইস্ট ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত। তালিকার নিচের দিকে প্রিমিয়ার, আল‑আরাফাহ্ ইসলামী, প্রাইম, ঢাকা, যমুনা, মার্কেন্টাইল, এনসিসি, ডাচ‑বাংলা, ওয়ান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) অবস্থান করে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার (১২ হাজার কোটি) বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার ২০টি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই পরিমাণে আমদানি, রপ্তানি এবং ব্যাংক গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত, যা বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল উপাদান হিসেবে গণ্য হয়।

বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে শীর্ষ তিনটি ব্যাংকের মধ্যে দুটি দেশি ব্যাংক, যা দেশি ব্যাংকগুলোর বাণিজ্যিক সেবা উন্নয়নের ফলাফল। প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে দেশি ব্যাংকগুলো দ্রুত ডিজিটাল সেবা প্রদান করে, ফলে তাদের বাজার অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

এইচএসবিসি ২০২৫ সালে ৯.৪২ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য সম্পন্ন করেছে, যা গত বছর ৮.৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সময়ে সিটি ব্যাংকের বাণিজ্যিক পরিমাণ ৮.০৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ২০২৪ সালে এটি ৬.৮০ বিলিয়ন ডলার ছিল।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের মতে, ব্যাংকটি সব ধরণের গ্রাহকের জন্য আমদানি‑রপ্তানি সেবা প্রদান করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কর্পোরেট গ্রাহকদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগণের জন্যও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি এবং দেশীয় মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক মানের ব্যাক‑অফিস সিস্টেম গড়ে তুলেছে, যার ফলে পুরো বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও কাগজবিহীন। এই পদক্ষেপগুলো গ্রাহকের সময়সীমা কমিয়ে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে তুলেছে।

ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে দেশি ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। প্রযুক্তি-চালিত সেবা, দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গ্রাহকের আস্থা জোরদার করেছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের মোট পরিমাণে ২০টি ব্যাংকের অংশীদারিত্ব ৮৩ শতাংশের কাছাকাছি, যা বাজারের কেন্দ্রীয়করণকে নির্দেশ করে। শীর্ষস্থানীয় দেশি ব্যাংকগুলোর এই উন্নতি ভবিষ্যতে আরও বেশি ব্যবসা আকর্ষণ করতে পারে এবং বিদেশি ব্যাংকের বাজার শেয়ার হ্রাস পেতে পারে।

তবে, বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর জন্যও নতুন সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে উচ্চ মূলধন এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সুবিধা ব্যবহার করে। তাদের জন্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় প্রযুক্তি গ্রহণই মূল চাবিকাঠি হবে।

সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে দেশি ব্যাংকগুলো শীর্ষে উঠে এসেছে, যা প্রযুক্তি গ্রহণ এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তারের ফল। এই প্রবণতা আগামী বছরগুলোতে বজায় থাকলে দেশি ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে পারে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments