শুক্রবার রাত প্রায় সাতটায় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা বাজারের আশেপাশে একটি প্রতিবাদ মিছিল গঠন করা হয়। মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা সলঙ্গা থানার প্রধান ফটকে সমাবেশ করে, যেখানে তারা মাঠ ভাড়া নিয়ে ওসির (অফিসার ইন চার্জ) অপসারণের দাবি জানায়। এই প্রতিবাদের মূল কারণ হল থানার সামনে অবস্থিত মাঠটি সরিষা শুকানোর জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে অবৈধ।
মিছিলটি সলঙ্গা বাজারের চারপাশে ঘুরে, শেষে থানার প্রধান ফটকে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উপস্থিতদের সংখ্যা আনুমানিক দুইশো থেকে তিনশো জনের মধ্যে ছিল এবং তারা একাধিক শ্লোগান শোনায়, যার মধ্যে ওসির পদত্যাগের দাবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন মিছিলের সময় বলেন, “থানার সামনের মাঠে আমাদের দুই গ্রামের ছেলেরা নিয়মিত খেলাধুলা করে। তবে এখন সেই মাঠটি সরিষা শুকানোর জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই পরিস্থিতিতে মাঠে কেউ খেলতে গেলে ওসি নিজেই বাধা দিচ্ছেন, ফলে আমাদের শিশুদের জন্য কোনো খেলার জায়গা নেই।” আলাউদ্দিনের বক্তব্যে মাঠের ব্যবহারিক দিক এবং শিশুদের অধিকার উভয়ই তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা একত্রে ওসির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান গুঞ্জন করে। মিছিলের সময় তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, ওসি জাফর ইমামকে সরিয়ে দিয়ে মাঠটি আবার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। এই দাবিগুলো স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতিফলন।
সেই সময় সলঙ্গা থানার ওসি জাফর ইমাম উপস্থিত হয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মাঠটি থানার দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি এবং সরিষা শুকানোর জন্য ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে মসজিদ উন্নয়ন ফান্ডে অর্থ প্রদান করেছে।” ইমাম আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই অর্থের মাধ্যমে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
ইমাম উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি কিছু লোক অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া দাবি করে, তবে তারা তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। ফলে, বৃহস্পতিবার একটি মিটিংয়ের মাধ্যমে ৬০,০০০ টাকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে মসজিদ উন্নয়ন ফান্ডে জমা দেওয়া হয়। এই টাকা মাঠের সরিষা শুকানোর কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে বলে তিনি জানান।
ইমাম আরও জানান, শুক্রবার ব্যবসায়ীরা মাঠে সরিষা শুকাতে আসার সময় অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা লোকজনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হয়। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা যখন জানালেন যে মাঠটি পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তখনই তারা রেগে গিয়ে মিছিলের আয়োজন করেন।” এই বিবরণে মিছিলের মূল কারণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পটভূমি স্পষ্ট হয়।
প্রতিবাদকারীরা উল্লেখ করেন যে, মাঠের ভাড়া প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি, ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করেন যে, ওসি জাফর ইমামকে পদত্যাগ করে মাঠটি আবার উন্মুক্ত করা উচিত, যাতে শিশু ও যুবকরা স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশ স্থানীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে মিছিলের সময় উপস্থিত থাকে। পুলিশ কর্মকর্তারা মিছিলের সময় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয় এবং কোনো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে না দেয়। তবে, মিছিলের সময় কোনো শারীরিক সংঘর্ষ বা গ্রেপ্তার হয়নি।
প্রতিবাদকারীরা মিছিলের পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাঠের ভাড়া প্রক্রিয়া অবৈধ এবং ওসির পদক্ষেপগুলি আইনের পরিপন্থী। অভিযোগের ভিত্তিতে, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, মাঠটি আসলেই থানার দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি, তবে এর ব্যবহারিক নিয়মাবলী স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। আইনি দিক থেকে, সরকারি সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক, যা এই ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে প্রাথমিক ধারণা।
স্থানীয় আদালতও এই বিষয়টি নিয়ে নজর রাখবে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের পক্ষ থেকে আদালতে রায়ের জন্য আবেদন করা হতে পারে, যেখানে মাঠের ব্যবহারিক অধিকার, ভাড়া চুক্তির বৈধতা এবং ওসির পদত্যাগের দাবি বিচারাধীন থাকবে।
এই ঘটনার পর সলঙ্গা থানার উচ্চতর কর্মকর্তারা একটি অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন। সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, যদি প্রমাণিত হয় যে ভাড়া প্রক্রিয়ায় কোনো লঙ্ঘন হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন যে, দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধান পাওয়া যাবে, যাতে মাঠটি আবার শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলাধুলার স্থান হয়ে ওঠে। তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা পুনরায় প্রতিবাদে অংশ নিতে প্রস্তুত।
সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার মাঠ ভাড়া নিয়ে স্থানীয় জনগণ ওসির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মিছিল গঠন করেছে। ওসি জাফর ইমাম মাঠের সরকারি সম্পত্তি হওয়ার কথা উল্লেখ করে ভাড়া প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন, তবে প্রতিবাদকারীরা স্বচ্ছতা ও আইনি পদ্ধতির অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ এবং আদালতের নজরে রয়েছে, এবং পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



