29.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইস্টার্ন প্যাসিফিকে মার্কিন বোমা হামলায় তিনজনের মৃত্যু

ইস্টার্ন প্যাসিফিকে মার্কিন বোমা হামলায় তিনজনের মৃত্যু

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইস্টার্ন প্যাসিফিকের একটি নৌকা লক্ষ্য করে আকাশ থেকে গুলি চালায়, ফলে তিনজন পুরুষের মৃত্যু হয়। এই নৌকাটি নার্কো-ট্রাফিকিং রুটে সন্দেহজনক ড্রাগ ডিলারদের দ্বারা পরিচালিত বলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ডের টুইটার (X) পোস্টে জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাদার্ন স্পিয়ার নৌকাটিকে ‘ডিজাইনেটেড টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ এর অধীনে কাজ করা হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং গুলিবর্ষণকে ‘লেথাল কিনেটিক স্ট্রাইক’ বলে বর্ণনা করেছে। পোস্টে সংযুক্ত সাদা-কালো ভিডিওতে নৌকাটির আকাশ থেকে দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে বোমা ফেলা হলে নৌকাটি আগুনে জ্বলে ওঠে।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌকা-ভিত্তিক মাদক পাচারকে লক্ষ্য করা শুরু করে, এবং তখন থেকে প্রায় ১৫০ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, পাশাপাশি ডজনখানেক নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ড্রাগ ট্রেডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে এই ধরনের আক্রমণ প্রায়ই স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই করা হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অতিরিক্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন যে, লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলোর বৈধতা প্রমাণ না করে গুলি চালানো আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির লঙ্ঘন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এই আক্রমণগুলো মাদক পাচার বন্ধ করার জন্য অপরিহার্য কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রশাসন দাবি করে যে, নৌকা-ভিত্তিক ড্রাগ ট্রেডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই ধরনের কাইনেটিক স্ট্রাইক চালিয়ে যাবে।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে, তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে এবং ভেনেজুয়েলার বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোর ওপর চমকপ্রদ আক্রমণ চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাগ ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারাধীন, যেখানে তিনি দোষ স্বীকার না করার অবস্থান নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক রাহুল চ্যাটার্জি উল্লেখ করেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক আক্রমণ নৌকা-ভিত্তিক মাদক পাচারকে দমন করার লক্ষ্য রাখলেও, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপারেশনগুলো যদি বৈধতা না পায় তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলো ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপকে তাদের স্বায়ত্তশাসন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে। তবে কিছু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা স্বীকার করে, কারণ তারা মাদক প্রবাহ কমাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং নৌকা-ভিত্তিক আক্রমণগুলো পূর্বে ঘটিত অন্যান্য অপারেশনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে লক্ষ্য ছিল মাদক সরবরাহ শৃঙ্খলকে ভেঙে ফেলা। এই ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন না করে একই কৌশল অব্যাহত থাকবে।

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড সম্ভবত আরও লক্ষ্যবস্তু নৌকাকে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছে, তবে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে তা কীভাবে মানিয়ে নেবে তা এখনো অনিশ্চিত। কিছু দেশ এই ধরনের আক্রমণকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ইস্টার্ন প্যাসিফিকে সাম্প্রতিক মার্কিন বোমা হামলা তিনজনের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং মাদক পাচার বিরোধী বৃহত্তর ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments