পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার সদর দফতরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেনকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মারধর করে পুলিশ হাতে তুলে দেন; এরপর পুলিশ রাকিবকে গ্রেপ্তার করে এবং শুক্রবার আদালতে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকিব হোসেনকে প্রথমে গণঅধিকার পরিষদের কিছু কর্মী শারীরিকভাবে আক্রমণ করে এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ গাড়িতে তুলে নেয়। রাকিবের ওপর আঘাতের পরিমাণ ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশিত না হলেও উপস্থিতদের মতে তার গায়ে বেশ কিছু চোটের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
দশমিনা থানার এসআই মনির হোসেন রাকিবকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলেন, তবে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার তার পথে বাধা দেন। বশার রাকিবকে সরাসরি থানায় নিয়ে যাওয়া প্রতিহত করে এবং পুলিশকে রাকিবের গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্ট দেখার দাবি করেন। এই মুহূর্তে রাকিবের হাতে থাকা ওয়ারেন্টের কাগজপত্র নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়ে ওঠে।
বশারকে সমর্থন করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী একত্রিত হন এবং পুলিশকে ঘিরে ধরেন। তারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখতে চেয়ে পুলিশকে বাধা দেন, ফলে পুলিশের কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। উপস্থিতদের মতে, ছাত্রদল সদস্যরা রাকিবের গায়ে হাত তুলতে থাকে এবং তাকে তোলার সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে।
বশার ও পুলিশের মধ্যে তীব্র কথোপকথন হয়। বশার দাবি করেন, রাকিবের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় তার কোনো অংশগ্রহণ নেই এবং তিনি শুধুমাত্র পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ রাকিবের ওয়ারেন্টের বৈধতা নিশ্চিত করতে চায় এবং গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে চায়।
অবশেষে অতিরিক্ত পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে দশমিনা থানায় নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারির সময় রাকিবের সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত সহিংসতা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে, তবে তার শারীরিক অবস্থার ওপর প্রাথমিক তদন্ত চালু রয়েছে।
শুক্রবার আদালতে রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আদালত রাকিবের বিরুদ্ধে গৃহীত গ্রেপ্তারকে বৈধ বলে স্বীকার করে এবং তাকে নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। রাকিবের বিরুদ্ধে কোন অতিরিক্ত অভিযোগের তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার ঘটনায় নিজের ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “আমি শুধু রাকিবের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চেয়েছি, কোনো সহিংসতা বা বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাকিবকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মারধর করে পুলিশ হাতে তুলে দিয়েছেন।
দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মিলন খান জানান, রাকিব হোসেনের গ্রেপ্তার সম্পূর্ণভাবে পুলিশ কর্তৃক করা হয়েছে এবং তাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতারা রাকিবকে পুলিশে হস্তান্তর করার সময় তাদের গায়ে হাত তুলেছেন, যা তিনি অনুচিত বলে বিবেচনা করেন।
দশমিনা থানার এসআই মনির হোসেন গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়ার সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারসহ কয়েকজনের বাধা পেয়ে ওয়ারেন্টের কপি দেখতে চেয়েছিলেন। কাগজপত্র দেখার পর পরিস্থিতি শীতল হয়ে যায় এবং রাকিবকে সুষ্ঠুভাবে থানায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। মনির হোসেন উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্টের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পরই রাকিবকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত তা বৈধ বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ওয়ারেন্টের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী রাকিব হোসেনের শারীরিক অবস্থা, গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং ছাত্রদল ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রকৃতি নির্ধারণ করা হবে। বর্তমান পর্যায়ে কোনো অতিরিক্ত দায়িত্ব বা শাস্তি আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।



