খুলনা বিভাগের পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি গ্রামে রবি মৌসুমে লবণাক্ত মাটিতে বার্লি চাষের পরীক্ষামূলক আবাদ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় কৃষক মনিরুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআই) সরবরাহকৃত বারি বার্লি‑৭ ও বারি বার্লি‑১০ জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন অর্জন করেছেন। এই ফলাফল লবণাক্ত ও অনুর্বর ভূমিতে স্বল্প বিনিয়োগে উৎপাদন সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
মনিরুলের বাড়ির চারপাশে গম, শস্য, পাটের প্রস্তুতি সহ বিভিন্ন ফসলের সমাহার দেখা যায়। তার বার্লি ক্ষেতের প্রান্তে বি.আর.আই.র সাইনবোর্ড টাঙানো আছে, যেখানে কৃষকের নাম এবং উভয় জাতের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ক্ষেতের সবুজ রঙের গাছগুলো পার্শ্ববর্তী ফসলের তুলনায় আলাদা করে নজর কাড়ছে।
কৃষক জানান, পূর্বে তিনি গম চাষ করতেন এবং গবেষণা বিভাগের পরামর্শে প্রথমবার বার্লি চাষে হাত দিলেন। বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার পর ফলন নিয়ে উদ্বেগ কমে গিয়েছিল। এখন ফলন দেখে তিনি সন্তুষ্ট এবং আশেপাশের অন্যান্য কৃষকও তার ক্ষেত পরিদর্শন করতে আসছেন। অনেকে বার্লি বীজ সংরক্ষণ করে নিজের জমিতে চাষের পরিকল্পনা করছেন।
বিআরআই’র বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান উল্লেখ করেন, বারি বার্লি‑৭ প্রজাতি কম উচ্চতার এবং ৯০‑১০৫ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। বারি বার্লি‑১০ প্রজাতি ৯০‑৯৫ সেমি উচ্চতা অর্জন করে এবং হেক্টরপ্রতি গড়ে ২.০‑২.৪ টন ফলন দেয়। উভয় জাতই লবণাক্ত মাটিতে ৮০‑৮৬ দিনের মধ্যে শস্য গঠন শুরু করে, যা রবি মৌসুমের জন্য উপযুক্ত সময়সীমা।
লবণাক্ত মাটিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় এবং সেচের প্রয়োজনীয়তা কম, ফলে উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়। রবি মৌসুমে যেখানে গম বা ধান ঝুঁকিতে থাকে, সেখানে বার্লি একটি স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে উদ্ভাসিত হচ্ছে। তাছাড়া, বার্লি শস্যের গুণগত মান উচ্চ এবং বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষকের আয় বাড়াতে সহায়ক।
প্রাথমিক পরীক্ষার সফলতা বিবেচনা করে কৃষক ও গবেষক আগামী মৌসুমে চাষের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। অতিরিক্ত জমিতে একই জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণে মনোযোগ দেওয়া হবে। গবেষণা দলও নতুন জমিতে সমজাতীয় পরীক্ষার জন্য বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত।
বার্লি ক্ষেতের পাশে জমি মালিক আমিরুল ইসলাম প্রথমে সন্দেহে ছিলেন, তবে গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও শীষের গুণমান দেখার পর তিনি নিজেও বার্লি চাষের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, “বার্লি গাছের বৃদ্ধি ভালো, শীষও সুন্দর, তাই আগামী মৌসুমে আমি কিছু জমিতে এই ফসল চাষের চেষ্টা করব।” তার মতামত স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলছে।
এই উদাহরণ দেখায় যে উপকূলীয় ও লবণাক্ত অঞ্চলে সঠিক জাতের নির্বাচন ও গবেষণা সহায়তা কৃষকদের জন্য নতুন আয় উৎস তৈরি করতে পারে। বার্লি জাতের বৈচিত্র্য ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আরও গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজন। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণে সরকার ও গবেষণা সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হতে পারে।
লবণাক্ত মাটিতে বার্লি চাষের সম্ভাবনা যাচাই করতে অন্যান্য গ্রামেও সমজাতীয় পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে। আপনি কি আপনার জমিতে এই জাতের ফসল চাষের কথা ভাবছেন?



