22.2 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের একমাত্র মহিলা মোটরসাইকেল চালক ও দাইয়া অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত ডকুমেন্টারির নায়িকা

ইরানের একমাত্র মহিলা মোটরসাইকেল চালক ও দাইয়া অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত ডকুমেন্টারির নায়িকা

ইরানের উত্তর-পশ্চিম জাঞ্জান অঞ্চলের গ্রামসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একমাত্র নারী প্রার্থী জয়লাভ করে, তার জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে তৈরি ডকুমেন্টারিটি আন্তর্জাতিক অস্কার পুরস্কারের জন্য ইরানের প্রথম মনোনয়ন পেয়েছে।

তেহরানের বাসিন্দা চলচ্চিত্র নির্মাতা সারা খাকি, পুরুষ প্রধান সমাজে সক্রিয় নারীদের পর্যবেক্ষণ থেকে নারী স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি দেশের নারী উদ্যোক্তা ও কর্মী নিয়ে গবেষণা করার সময় জাঞ্জানের এক অনন্য নারীকে খুঁজে পান, যিনি একমাত্র মহিলা মোটরসাইকেল চালক এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য দাইয়া হিসেবে ৪০০টিরও বেশি শিশুকে জন্ম দেন।

সারা শাহভার্দি নামে পরিচিত এই নারী, গাড়ি চালানোর পাশাপাশি গ্রামসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। বহুবার ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে খাকি ও সহ-নির্দেশক মোহাম্মদরেজা এয়নি তার সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং চলচ্চিত্রের ধারণা গৃহীত হয়।

প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরু হয় এবং আট বছর ধরে চলার পর “কাটিং থ্রু রকস” শিরোনামে সম্পন্ন হয়। এই কাজটি ইরানের প্রথম ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ ডকুমেন্টারি বিভাগে মনোনয়ন পায়, যা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

ডকুমেন্টারিতে শাহভার্দি তার গ্রামসভা নির্বাচনের প্রচারাভিযানকে কেন্দ্র করে দেখানো হয়েছে। ১,৫০০ জন পুরুষ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি হলের মধ্যে তিনি একমাত্র নারী হিসেবে উপস্থিত হন এবং সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে গ্রামসভা পরিষদের প্রথম মহিলা সদস্য হন।

নির্বাচনের পর তিনি গ্রামকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করেন, ভূমি মালিকানার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর সমবণ্টনের ধারণা প্রচার করেন এবং কিশোরী বয়সে বধূ হওয়া ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার সংরক্ষণের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন।

একটি অনুষ্ঠানে তিনি নারীদের সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে ১১ বছর বয়সী মেয়েদের বধূ হওয়ার সমস্যাকে তুলে ধরেন এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিজ্ঞা শোনেন। এই দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রে নারীর স্বায়ত্তশাসন ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

প্রচলিত পুরুষ প্রধান গ্রামসভা সদস্যদের মধ্যে কিছুজন তার নেতৃত্বের পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, কারণ গ্রামীয় সমাজে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। তবে শাহভার্দির বাস্তবিক কাজ ও ফলাফল তাদের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।

এই নির্বাচনী জয় ও চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইরানের গ্রামীণ এলাকায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে আরও নারীরা রাজনৈতিক মঞ্চে আসার সম্ভাবনা বাড়বে এবং সরকারী নীতিতে লিঙ্গ সমতা সংক্রান্ত পদক্ষেপ ত্বরান্বিত হতে পারে।

অস্কার পুরস্কার অনুষ্ঠানে এই ডকুমেন্টারির উপস্থাপনা ইরানের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি এনে দেবে, পাশাপাশি শাহভার্দির মতো নারীর গল্পকে বিশ্বজনীন করে তুলবে। তার কর্মজীবন ও রাজনৈতিক সাফল্য দেশের নারীর অধিকার আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments