লিয়ন শহরে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ছোট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী ছাত্র কুয়েন্টিন ডেরাঙ্কের গুলি না হয়ে, মুখোমুখি হিংসা ঘটায়। তিনি সেই দিনটি ফার-ডান ফেমিনিস্টদের রক্ষা করার জন্য উপস্থিত ছিলেন, তবে হেডহান্টার হিসেবে চিহ্নিত কিছু তরুণের আক্রমণে তিনি মাটিতে পা গড়িয়ে মারধর ও লাথি পেয়েছিলেন। ভিডিও রেকর্ডে দেখা যায়, মুখোশ ও হুড পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বারবার লাথি ও গুলিতে আঘাত করে, ফলে তার মাথায় গুরুতর আঘাত হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পরপরই লেফটের প্রধান দল লা ফ্রাঁস ইনসৌমিস (LFI) ও তার নেতা জঁ-লুক মেলঁশঁের ওপর তীব্র সমালোচনা উঠে আসে। LFI, যা জাতীয় সমাবেশে ৭০টি আসন ধারণ করে, এখন রাজনৈতিক পরিসরে কঠোর প্রশ্নের মুখে। তদন্তে প্রকাশ পায়, সাতজন সন্দেহভাজন সকলেই লা জিউন গার্ড (The Young Guard) নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত, যা পূর্বে LFI-র নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিল এবং গত বছর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
সন্দেহভাজনদের মধ্যে জ্যাক-এলি ফ্যাভরো নামের এক ব্যক্তি বিশেষভাবে নজরে আসে; তিনি LFI-র একজন সংসদীয় সহকারী রাফায়েল আরনল্টের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন, যিনি ২০১৮ সালে লা জিউন গার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। ফ্যাভরোকে “উদ্দীপনা দ্বারা হত্যার সহায়তা” এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যদিও তাকে সরাসরি মারধর করার অভিযোগে দায়ী করা হয়নি। অন্যদিকে, এড্রিয়ান বেসেয়ারকে সরাসরি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে; তিনি আরনল্টের দলীয় কাজেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।
প্রতিবাদে উপস্থিত সকল সন্দেহভাজনই হত্যার উদ্দেশ্য না থাকায় দোষ স্বীকার করেননি। তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের মতে, দুইজন সাক্ষাৎকারে কথা বলতে অস্বীকার করেন, বাকি পাঁচজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার স্বীকারোক্তি দেন এবং কিছুজন আঘাতের স্বীকারোক্তি করেন। তবে, তাদের মধ্যে কেউই স্বীকার করেননি যে তারা ডেরাঙ্কের মৃত্যুর জন্য পরিকল্পনা করেছিল।
এই ঘটনার আগে ফরাসি রাজনৈতিক দৃশ্যে চরমপন্থী গোষ্ঠীর জন্য দায়িত্বের দায়িত্ব সাধারণত ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্ট ও তার উত্তরসূরি ন্যাশনাল র্যালি (RN) এর ওপর আরোপিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক দশ দিনে লেফটের এই কাণ্ডের ফলে ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গি উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। লা ফ্রাঁস ইনসৌমিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক পরিসরে লেফটের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
লিয়নের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে, ভিডিও রেকর্ড, সাক্ষী বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, লা জিউন গার্ডের আর্থিক লেনদেন ও সদস্য তালিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়, LFI-র অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও নিরাপত্তা নীতি পুনরায় পর্যালোচনা করা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই কাণ্ডের ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। LFI, যা ঐতিহাসিকভাবে বামপন্থী ভোটারদের সমর্থন পায়, এখন তার নেতৃত্বের নৈতিকতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নের মুখে। একই সঙ্গে, মেলঁশঁের নেতৃত্বে থাকা দলটি এখনো তার নীতি ও কর্মসূচি বজায় রাখার জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে।
ন্যাশনাল র্যালি, যা পূর্বে রাজনৈতিক পরিসরে বহিরাগত হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন লেফটের এই কাণ্ডের ফলে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসতে পারে। তবে, এই পরিবর্তনটি কেবলমাত্র রাজনৈতিক কৌশলগত হিসাবের ওপর নির্ভরশীল, কারণ ভোটাররা এখন নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
সামাজিক মিডিয়ায় ঘটনাটির প্রতি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু ব্যবহারকারী লা জিউন গার্ডের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন, অন্যদিকে কিছু লেফটের সমর্থকরা এই কাণ্ডকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখাচ্ছেন। তবে, মিডিয়ার রিপোর্টে দেখা যায়, অধিকাংশ বিশ্লেষকই ঘটনাটিকে লেফটের অভ্যন্তরীণ গঠনগত সমস্যার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
আইনি দিক থেকে, সাতজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে এখনো আদালতে শুনানি বাকি রয়েছে। বিচারকরা তাদের অপরাধের মাত্রা নির্ধারণের জন্য প্রমাণের পূর্ণতা যাচাই করবেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত অভিযুক্তদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল লেফটের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, লিয়নে কুয়েন্টিন ডেরাঙ্কের হত্যাকাণ্ড লা ফ্রাঁস ইনসৌমিসের নিরাপত্তা নীতি, গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই কাণ্ডের পরিণতি কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত যে নিরাপত্তা ও নৈতিকতা বিষয়ক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করা যায় না।



