ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসে নতুন 10% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপিত। তিনি পূর্বে বাতিল হওয়া শুল্কের পরিবর্তে এই নতুন হার প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ আদালত 6-3 ভোটে হোয়াইট হাউসের বেশিরভাগ বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে, রায়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অতিক্রমের অভিযোগ তুলে। আদালতের সিদ্ধান্তে গত বছর ঘোষিত শুল্কগুলোর বেশিরভাগই অবৈধ বলে ঘোষিত হয়।
বাতিল শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও বেশ কয়েকটি রাজ্য সম্ভাব্য বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত পাওয়ার আশা করে, তবে একই সঙ্গে বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা বাড়ে। চ্যালেঞ্জকারী রাজ্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুল্ক আরোপকে সংবিধানবিরোধী বলে দাবি করেছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে রিফান্ডের জন্য আইনি লড়াই অবশ্যম্ভাবী এবং মামলাটি বছরের পর বছর চলতে পারে। তিনি রিফান্ডের প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ এবং জটিল বলে বর্ণনা করে, আদালতের রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শুল্ক পুনরায় চালু করতে তিনি অন্য আইন ব্যবহার করার কথা বলেন, যা তিনি দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক বলে দাবি করেন। ট্রাম্পের দল IEEPA ছাড়াও অতিরিক্ত আইনগত ভিত্তি খুঁজে শুল্ক নীতি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
নতুন 10% শুল্কের প্রস্তাব সব দেশ থেকে আমদানি পণ্যের উপর সমানভাবে প্রয়োগ হবে, যা পূর্বে বাতিল শুল্কের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপিত। এই হারকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পক্ষেত্রকে রক্ষা করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন।
গত বছর ট্রাম্প প্রায় সব দেশের পণ্যগুলিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন; প্রথমে মেক্সিকো, কানাডা ও চীনকে লক্ষ্য করে, পরে এপ্রিল মাসে “মুক্তি দিবস” নামে বহু দেশের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়। এই বিস্তৃত শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছিল।
হোয়াইট হাউস 1977 সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) উল্লেখ করে শুল্কের বৈধতা দাবি করেছিল, যা জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দেয়। তবে IEEPA মূলত জরুরি অর্থনৈতিক হুমকির মোকাবিলার জন্য তৈরি, শুল্ক আরোপের জন্য নয়।
ব্যবসা ও ছোট ব্যবসা, পাশাপাশি কিছু রাজ্য এই আইনকে শুল্কের জন্য ব্যবহার করা অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করে, কারণ আইনে “শুল্ক” শব্দের কোনো উল্লেখ নেই। তারা যুক্তি দেয় যে কংগ্রেসই শুল্ক আরোপের একমাত্র ক্ষমতা রাখে।
সর্বোচ্চ আদালত রায়ে স্পষ্ট করে জানায় যে কংগ্রেসের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সংবিধানিকভাবে সংরক্ষিত, এবং প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহারকে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। এই রায় শুল্ক নীতির আইনি ভিত্তি পুনরায় নির্ধারণ করে।
রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল শুল্ক ফেরত পাওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত নতুন শুল্কের মাধ্যমে নীতি চালিয়ে যাবে। তিনি কংগ্রেসের সমর্থন চাইতে ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি রায়কে “ভয়ানক” এবং বিচারকদের “মূর্খ” বলে সমালোচনা করেন, পাশাপাশি বিকল্প আইন ব্যবহার করে শুল্ক চালু করার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশ আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষকরা রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর বড় প্রভাব হিসেবে দেখছেন, কারণ নতুন শুল্কের সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে এবং পণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে পারে।
পরবর্তী ধাপে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্কের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে এবং কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবে, একইসঙ্গে রিফান্ডের জন্য চলমান মামলাগুলোকে চালিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়া শুল্ক নীতির স্থায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা, রপ্তানি-আমদানি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে, যা আগামী মাসে আরও স্পষ্ট হবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের গতিপথকে প্রভাবিত করবে।



