অ্যাডাম উইঙ্গার্ড পারামাউন্ট পিকচার্সের পরিকল্পিত ‘Face/Off’ সিক্যুয়েল প্রকল্প থেকে গত গ্রীষ্মে প্রস্থান করেন। উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে তিনি লেখক ও পরিচালক হিসেবে কাজ থেকে সরে যান এবং এখন চলচ্চিত্রের পরিচালক চেয়ার খালি।
১৯৯০‑এর শেষের দশকের আইকনিক অ্যাকশন ছবি ‘Face/Off’‑এর সিক্যুয়েল তৈরির পরিকল্পনা সম্প্রতি আবার আলোতে এসেছে। মূল চলচ্চিত্রটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় এবং জন ট্রাভোল্টা ও নিকোলাস কেজের অভিনয়ে ফেসবুকের মতো একটি কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত হয়।
২০১৯ সালে প্রযোজক নিল মরিটজের নেতৃত্বে রিমেকের খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে ওরেন উজিয়েলকে স্ক্রিপ্ট লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই বছর পর, ২০২১ সালে পারামাউন্ট উইঙ্গার্ডকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করে এবং তিনি সিমন বারেটের সঙ্গে একসাথে স্ক্রিপ্ট রচনা শুরু করেন।
হলিউড রিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী, উইঙ্গার্ডের প্রস্থান পারামাউন্টের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে ঘটেছে এবং এটি গত গ্রীষ্মে সম্পন্ন হয়। উভয় দলই এই সিদ্ধান্তকে পারস্পরিক সুবিধাজনক বলে প্রকাশ করেছে।
এখন পারামাউন্ট নতুন পরিচালক খুঁজছে এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছেন। সিক্যুয়েলের জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত নাম নির্ধারিত হয়নি, ফলে প্রকল্পটি একটি উন্মুক্ত দায়িত্বে রয়ে গেছে।
মূল ‘Face/Off’ চলচ্চিত্রটি জন উয়ের পরিচালনায় তৈরি হয়, যেখানে একটি এফবিআই এজেন্ট (জন ট্রাভোল্টা) এবং সন্ত্রাসী (নিকোলাস কেজ) এক পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে মুখ ও পরিচয় বদলায়। ছবিটি ১৯৯৭ সালের জুনে মুক্তি পায়, বিশ্বব্যাপী ২৪০ মিলিয়ন ডলার আয় করে এবং সাউন্ড এফেক্টস এডিটিং বিভাগে অস্কার নোমিনেশন পায়।
উইঙ্গার্ডের বর্তমান কাজের মধ্যে এ২৪ স্টুডিওর থ্রিলার ‘Onslaught’ রয়েছে, যেখানে আদ্রিয়া আরজোনা, ড্যান স্টিভেন্স, ড্রু স্টার্কি এবং রেবেকা হল অভিনয় করছেন। তার পূর্বের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘The Guest’, ২০১৬ সালের ‘Blair Witch’ সিক্যুয়েল, এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও লিজেন্ডারি (লিজেন্ডারি) সমন্বিত ‘Godzilla vs. Kong’ ও ‘Godzilla x Kong: The New Empire’ অন্তর্ভুক্ত।
২০২৪ সালে গডজিলা ও কং প্রচারাভিযানের সময় উইঙ্গার্ড ‘Face/Off’ সিক্যুয়েলের স্ক্রিপ্টের অগ্রগতি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি স্ক্রিপ্টকে চমৎকার বলে উল্লেখ করে মূল ছবির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন, তবে এখন তিনি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নন।
পরামাউন্টের জন্য এখন সিক্যুয়েলের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মূল ছবির সাফল্য ও সংস্কৃতি প্রভাব নতুন পরিচালকের জন্য উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করে। স্টুডিও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং সিক্যুয়েলকে মূলের সত্তা বজায় রেখে আধুনিক দর্শকের কাছে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করছে।
‘Face/Off’ সিক্যুয়েলের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত, তবে পরিচালক পদের খালি থাকা মানে নতুন সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি আসার সম্ভাবনা। ভক্তরা নতুন ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং স্টুডিও দ্রুতই নতুন পরিচালক নির্বাচন করে প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে চায়।



