সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দুই ডাব বিক্রেতা চাঁদা না দেওয়ার ফলে তাদের গাড়ি ও প্রায় দুইশো ডাব নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক উত্তর ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন বাবুর।
ভিকটিমদের মতে, রেডিও কলোনি এলাকার ফুটপাতের চা ঘর, মাছ, সবজি ও ডাব বিক্রেতা সহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। জাতীয় নির্বাচনের পর এই চাঁদা সংগ্রহে আরমান হোসেন বাবু সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।
ডাব বিক্রেতা নুর আলম ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ফুটওভার ব্রিজের নিচে তার গাড়িতে ডাব বিক্রি করতে বসে থাকেন। একই সময়ে আরমান হোসেন বাবুর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল এসে চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অক্ষমতা জানানোর পর নুর আলমকে শারীরিক হিংসা করা হয় এবং তার গাড়ি থেকে প্রায় দুইশো ডাবসহ সম্পূর্ণ মালামাল নিয়ে নেওয়া হয়।
অন্য ডাব বিক্রেতা সাজিবুল ইসলাম রনি একই ধরনের হুমকি ও জবরদস্তির শিকার হন। তিনি জানান, চাঁদা না দিলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তার গাড়ি থেকে ডাব ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে যাওয়া হয়। উভয় বিক্রেতা দাবি করেন যে তারা শারীরিক আঘাত পেয়েছেন এবং গাড়ি ও পণ্যের ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বহু ব্যবসায়ী আরমান হোসেন বাবুকে বিএনপি নেতা ও সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর আস্থাভাজন হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা আরও জানান, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রকাশিত হয়নি।
অভিযোগের পর আরমান হোসেন বাবুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সাভার মডেল থানার ওয়্যার্ড অফিসার আরমান আলি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে থাকলেও, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘটনার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই চাঁদা সংগ্রহের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছেন।
অধিক তথ্য না থাকায়, বর্তমান পর্যায়ে ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।



