বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়, আর একক অঞ্চল হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে রপ্তানি সর্বোচ্চ। মোট রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি ইউরোপে যায়, যা দেশের বাণিজ্যিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যের সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল উল্লেখ করেন, ইউরোপ দেশের সর্ববৃহৎ বাজার এবং রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই সেখানে বিক্রি হয়। তিনি এ কথা বলার সময় বর্তমান বাজারের গঠন ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা তুলে ধরেন।
রুবেলের মতে, ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) কার্যকর হলে ভারতের পোশাক রপ্তানিতে আর কোনো শুল্ক আরোপ থাকবে না। শুল্কমুক্তি ভারতের উৎপাদন খরচ কমিয়ে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা বাড়াবে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি শেয়ার হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
ভারত কটনের সরবরাহে ব্যাপক সহায়তা প্রদান করে, যা পোশাক উৎপাদনের মূল উপাদান। এই সাপোর্টের ফলে ভারতীয় গার্মেন্টস সেক্টর কাঁচামাল দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে। রুবেল উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় শিল্প আমাদের বাজারে অগ্রগতি করবে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সম্প্রতি ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। তুলনায়, ইউরোপীয় বাজারের মোট আকার ২০০ থেকে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের উপরে। এই পার্থক্য নির্দেশ করে যে ভারতীয় রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন হলে ইউরোপীয় বাজারে তাদের শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা বাংলাদেশের শেয়ারকে কমিয়ে দিতে পারে।
এই পরিবর্তন বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষস্থান বজায় রাখতে এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে শিল্পকে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। উৎপাদন খরচ কমানো, মান উন্নয়ন এবং দ্রুত সরবরাহ চেইন গঠন এখন অপরিহার্য।
অধিকন্তু, বাজার বৈচিত্র্যকরণও জরুরি। একক দেশ বা একক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান দেশগুলোকে লক্ষ্য করা যেতে পারে। নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বাণিজ্য মিশন চালু করা উচিত।
সরকারি নীতি সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি সুবিধা, কর ছাড় এবং প্রযুক্তি আপগ্রেডে সহায়তা প্রদান করে শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে শ্রমিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, ইউরোপে রপ্তানির অর্ধেক ভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান বজায় রাখতে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যের উদ্যোগ ও সরকারী সমর্থন একসাথে কাজ করতে হবে। ভারতের ফ্রি ট্রেড চুক্তি থেকে উদ্ভূত নতুন প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় উৎপাদন দক্ষতা, বাজার বৈচিত্র্য এবং নীতি সহায়তা মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে এই তিনটি দিকেই ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।



