গ্যাভিন পোলোন পরিচালিত ‘সাইকো কিলার’ ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রেটেড‑আর সার্টিফিকেশনসহ থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিতে জর্জিনা ক্যাম্পবেল, জেমস প্রেস্টন রজার্স, গ্রেস ডোভ, লোগান মিলার এবং মালকম ম্যাকডউয়েল প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। মোট দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা তেইশ মিনিট, এবং চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রায় দুই দশক ধরে বিকাশের পর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চলচ্চিত্রের গল্পের রচয়িতা অ্যান্ড্রু কেন ভল্কার, যিনি ‘সেভেন’ ছবির স্ক্রিপ্টের জন্য পরিচিত। ভল্কারের লেখনীতে গাঢ় থিম এবং জটিল চরিত্র গঠন দেখা যায়, যা ‘সাইকো কিলার’‑এও প্রতিফলিত হয়েছে। তবে এই নতুন কাজটি তার পূর্বের সাফল্যের তুলনায় ভিন্ন শৈলীতে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রারম্ভিক দৃশ্যটি কানসাসের সমতল রাস্তায় সেট করা হয়েছে, যেখানে একটি হাইওয়ে প্যাট্রোল অফিসার গাড়ি থামিয়ে একটি ট্রাফিক চেক করে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা কণ্ঠস্বরটি অস্বাভাবিকভাবে গম্ভীর ও ভয়ঙ্কর, যা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবু অফিসারটি তেমন সন্দেহ প্রকাশ করে না, যা পরবর্তী ঘটনাবলির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে।
চিত্রের প্রধান খলনায়ক হিসেবে জেমস প্রেস্টন রজার্সের চরিত্রটি শারীরিকভাবে বিশাল এবং ভয়ঙ্কর চেহারার। তার কণ্ঠস্বর গভীর, যা কখনও কখনও রেকর্ডিং যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়। চরিত্রটি রেডিয়েশন মাস্ক পরিধান করে, যা তাকে গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি এড়াতে সহায়তা করে। এই অনন্য চেহারা তাকে সাধারণ কনভিনিয়েন্স স্টোরে প্রবেশ করলেও অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
চলচ্চিত্রের প্রথম অংশটি শক্তিশালীভাবে শুরু হলেও, পরবর্তী অংশে গল্পের গতি ধীরে ধীরে বিচ্যুত হতে থাকে। প্রাথমিকভাবে গাঢ় ও জটিল পরিবেশ গড়ে তোলার পর, পরবর্তী দৃশ্যগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা দেখা যায়। ফলে পুরো চলচ্চিত্রটি একাধিক মোড়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বিচ্যুত হয়ে শেষের দিকে সম্পূর্ণভাবে পথে হারিয়ে যায়।
‘সাইকো কিলার’ এর ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও সাউন্ড ডিজাইন কিছু দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে ছবিটি শৈল্পিক সূক্ষ্মতা ও বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসের অভাব রয়েছে, যা একই ধরণের থ্রিলার চলচ্চিত্রে সাধারণত প্রত্যাশিত।
সামগ্রিকভাবে, গ্যাভিন পোলোনের এই নতুন হরর প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও পরিচিত রচয়িতার সহযোগিতায় তৈরি হলেও, দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবু জর্জিনা ক্যাম্পবেল ও মালকম ম্যাকডউয়েলের পারফরম্যান্সে কিছু প্রশংসনীয় দিক রয়েছে, যা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক মানকে কিছুটা উঁচু করে।
‘সাইকো কিলার’ এখন থিয়েটারে চলমান, এবং রেটেড‑আর সার্টিফিকেশন অনুযায়ী ১৭ বছরের নিচের দর্শকদের জন্য উপযুক্ত নয়। চলচ্চিত্রটি হরর শৈলীর ভক্তদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারে, তবে গল্পের ধারাবাহিকতা ও শৈল্পিক গুণগত মানের ক্ষেত্রে সমালোচকের মন্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।



