ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ রাত্রি অর্ধরাতের পর রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসাথে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সমাবেশ করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও আমর একুশে উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উভয় নেতাই শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে শোভাযাত্রা ও শোকের পরিবেশ বজায় রাখেন।
রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভে একটি শোভাযাত্রা রাখেন। শোভাযাত্রা রাখার পর তিনি এক মুহূর্তের নীরবতা বজায় রেখে শহীদদের ত্যাগকে স্মরণ করেন। এই কাজটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতির পর শোভাযাত্রা রাখেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে একই রীতি অনুসরণ করেন। শোভাযাত্রা রাখার পর তিনি আবার এক মুহূর্তের নীরবতা বজায় রাখেন, যা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোভাযাত্রা রাখার পর তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের পদে থেকেও একটি শোভাযাত্রা রাখেন। এই দ্বৈত ভূমিকা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে এবং শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বকে দু’বার জোরদার করে। উভয় শোভাযাত্রা একই স্থানে রাখা হলেও প্রতিটি পদে তারেকের ভিন্ন ভূমিকা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
শহীদ মিনারে উপস্থিত সকল নেতাই শোকের মুহূর্তে নীরবতা বজায় রাখেন। এই নীরবতা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ জনগণও একই সঙ্গে নীরবতা বজায় রেখে শহীদদের স্মরণে অংশ নেয়।
ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ত্যাগ স্বীকার করা শহীদদের স্মরণে আজও জাতীয় গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই দিনে সরকারী ও রাজনৈতিক নেতাদের সমবেত উপস্থিতি ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েরই একসাথে শোবার ঘন্টার পর শহীদ মিনারে উপস্থিতি রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষের এই সমন্বিত পদক্ষেপ দেশের বিভিন্ন স্তরে ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান ও সমর্থন বাড়াতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ধরনের সমাবেশ ও শোভাযাত্রা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতি সম্মান বজায় রাখতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে আরও সমাবেশের পরিকল্পনা থাকতে পারে, যা জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে শক্তিশালী করবে।
আজকের অনুষ্ঠানটি শহীদদের ত্যাগকে স্মরণে রাখার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ঐতিহাসিক বিষয়ের প্রতি সম্মানজনক মনোভাব প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হবে।



