দা হান্ড্রেডের প্রথম নিলাম ইভেন্টের জন্য ৭১০ জন খেলোয়াড়ের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল থেকে মোট ২৩ জন নাম অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্টের নিলামের জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান।
মুস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য এক লাখ পাউন্ড নির্ধারিত, যা তালিকায় সর্বোচ্চ স্তর। তার নিচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ৭৫ হাজার পাউন্ডে রয়েছে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, যাকে একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এই ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে।
বাকি ২১ জন বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের ভিত্তিমূল্য ৩১ হাজার পাউন্ড নির্ধারিত। এ গোষ্ঠীতে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম, পেসার তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, রিপন মণ্ডল, নাহিদ রানা, তানজিম হাসান, কিপার‑ব্যাটসম্যান জাকের আলি ও লিটন দাস, স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ, ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, পারভেজ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাব্বির রহমান এবং সৌম্য সরকার অন্তর্ভুক্ত।
মুস্তাফিজের নাম নভেম্বরের আইপিএল নিলামে উঠে আসে, যেখানে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি মূল্যে দলভুক্ত করে। তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদে ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাকে বাদ দিতে হয়। পরে ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশি ক্রিকেট দল নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচে অংশ নিতে অস্বীকার করে। আইসিসি এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
পাকিস্তান দলও একই সময়ে ভারত বিরোধী গ্রুপ ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়, তবে আইসিসির হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং শেষ পর্যন্ত ভারত পাকিস্তানকে পরাজিত করে।
মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর, পাকিস্তান সুপার লিগের দল লাহোর কালান্দার্স তার সঙ্গে সরাসরি চুক্তি সম্পন্ন করে। নিলামের আগে লাহোর কালান্দার্স তাকে ৬ কোটি ৮৮ লাখ পাকিস্তানি রুপি মূল্যে সই করায়।
দা হান্ড্রেডের নিলাম মার্চে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে, এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দল থেকে নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও ভিত্তিমূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নজরদারিতে থাকবে।
নিলামের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দলগুলো তাদের কৌশল নির্ধারণ করবে, বিশেষ করে বাংলাদেশি পেসার ও স্পিনারদের উচ্চ ভিত্তিমূল্য তাদের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়াতে পারে।
ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলোও এই তালিকাকে ভিত্তি করে তাদের স্কোয়াড গঠন করবে, যেখানে মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ পেসারদের পুনরায় বাজারে ফিরে আসা সম্ভাবনা রয়েছে।
দা হান্ড্রেডের নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করবে, এবং খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
এই নিলাম ইভেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও দৃশ্যমানতা অর্জনের সুযোগ মিলবে, এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নতুন চুক্তি ও সুযোগের দরজা খুলে যাবে।



