রাজপরিবারের অষ্টম উত্তরসূরি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসোরকে রাজসিংহাসন থেকে বাদ দেওয়ার দাবি সম্প্রতি পার্লামেন্টে তীব্রতা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে পাবলিক অফিসে দুর্নীতির সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি তা অস্বীকার করে চলেছেন। এই বিষয়টি সরকারকে নতুন আইন প্রণয়নের চাপে ফেলেছে, কারণ তার উত্তরাধিকারিক অবস্থান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বজায় আছে।
অ্যান্ড্রু, যিনি অক্টোবর মাসে প্রিন্সের পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন, তবুও এখনো রাজসিংহাসনের অষ্টম স্থানে রয়েছেন। তার শিরোনাম বাদ দেওয়া হয়েছিল জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর বাড়তি জনসাধারণের চাপের ফলে। যদিও শিরোনাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তার উত্তরাধিকারিক স্থান পরিবর্তন হয়নি, যা রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
গত বৃহস্পতিবারের গ্রেফতারটি পাবলিক অফিসে অনুপযুক্ত আচরণের সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। অ্যান্ড্রু এই অভিযোগের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনগত অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তার মুক্তি তদন্তের অধীনে শর্তসাপেক্ষে প্রদান করা হয়েছে, যা বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারিক তালিকা পরিবর্তনের জন্য পার্লামেন্টের মাধ্যমে একটি আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হবে। এমন কোনো আইনকে সকল কমনওয়েলথ দেশের সম্মতি নিতে হবে, যেহেতু তারা সবাই রাজা চার্লসকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাই এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কেবল যুক্তরাজ্যের সংসদ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয়ও দাবি করে।
লিবারেল ডেমোক্রেটস এবং স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এই ধরনের আইন প্রণয়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। উভয় দলই অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকারিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনিরাপদ পরিস্থিতি এড়ানো যায়। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি রাজপরিবারের সুনাম রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপের দাবি রাখে।
অন্যদিকে, কিছু লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যান্ড্রুকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন যে, ডিউক অফ ইয়র্কের রাজসিংহাসনের কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, তাই আইনগত পরিবর্তন অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে এই সংশয়ী দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়ই পার্লামেন্টের মধ্যে সমানভাবে স্বীকৃত নয়।
ডাউনিং স্ট্রিটের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, সরকার বর্তমানে উত্তরাধিকারিক তালিকা পরিবর্তনের জন্য কোনো আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা না রাখে। এই অবস্থানটি পূর্বে অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়েছিল, যখন অ্যান্ড্রু তার শিরোনাম হারিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সরকারকে আবার এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
লিবারেল ডেমোক্রেটসের নেতা এড ডেভি বলেছেন, পুলিশকে তাদের কাজ নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পার্লামেন্টকে যথাযথ সময়ে এই বিষয়টি আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে রাজপরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইনগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী।
এসএনপির ওয়েস্টমিনস্টার নেতা স্টিফেন ফ্লিনের মতে, যদি আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয় তবে তারা তা সমর্থন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকারিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া রাজপরিবারের স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সহায়ক হবে। এই অবস্থানটি পার্টির সাম্প্রতিক নীতি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
লেবার পার্টির ইয়র্ক সেন্ট্রাল প্রতিনিধিত্বকারী রাচেল মাস্কেলও অ্যান্ড্রুকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আইন প্রণয়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কেবলমাত্র উত্তরাধিকারিক তালিকাই নয়, কাউন্সেলর অফ স্টেটের পদ থেকেও তাকে অপসারণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রয়োজনীয় ক্ষমতা ব্যবহার রোধ করা যায়। তার দাবি পার্লামেন্টে আলোচনার নতুন দিক যোগ করেছে।
অ্যান্ড্রুর বর্তমান অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের ফলে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ গঠন ও জনমত উভয়ই প্রভাবিত হচ্ছে। যদি পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন হয়, তবে এটি কেবল যুক্তরাজ্যের নয়, সমগ্র কমনওয়েলথের উত্তরাধিকারিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও সরকারী নীতি ভবিষ্যতে কীভাবে গঠিত হবে, তা নজরদারির বিষয়।
পরবর্তী সময়ে পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে আইনগত প্রক্রিয়া, কমনওয়েলথের সম্মতি এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি একসাথে বিবেচনা করা হবে। অ্যান্ড্রু নিজে এই প্রক্রিয়ার ফলাফলকে প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, তবে তার ভবিষ্যৎ অবস্থান শেষ পর্যন্ত সংসদীয় ভোট ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।



