লিমিংটন স্পা-র ২৬ বছর বয়সী অর্ধ‑প্রফেশনাল টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোশ বেনেট হলিউডের টেবিল টেনিস বায়োপিক “মার্টি সুপ্রিম”‑এ টেড বেইলি চরিত্রে নির্বাচিত হয়েছেন। এই সুযোগটি তাকে শোবার ঘরের জুম কল থেকে আসা একটি ভিডিও অডিশনের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের টেবিল টেনিস শাসন সংস্থা ব্রিটিশ খেলোয়াড়দের জন্য একটি ক্যাস্টিং কল প্রকাশ করে, যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড এক্সট্রা বা ছোট ভূমিকা চাওয়া হয়। জোশ এই বিজ্ঞাপনটি দেখার পর নিজের ভিডিও অডিশন জমা দেন এবং জুম কলের মাধ্যমে একটি দৃশ্যের অভিনয় করে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
অডিশনের পর দ্রুতই সংস্থা তাকে নিউ ইয়র্কে শ্যুটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। জোশকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গিয়ে ছবির প্রধান শুটিং সেশনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে তিনি টেড বেইলি চরিত্রের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যগুলো সম্পন্ন করেন।
“মার্টি সুপ্রিম” ছবিটি হলিউডের তরুণ অভিনেতা টিমোথি চ্যালামেটের নেতৃত্বে তৈরি, এবং এটি পোস্ট‑ওয়ার যুদ্ধের টেবিল টেনিস নায়ক মার্টি রেইসম্যানের জীবনের উপর আধা‑কল্পিত ভিত্তিতে নির্মিত। ছবিটি ইতিমধ্যে ক্রিটিক্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস এবং গোল্ডেন গ্লোবসে সেরা অভিনেতা পুরস্কার জিতেছে, এবং আগামী রবিবারের বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে ১১টি ক্যাটেগরিতে মনোনয়ন পেয়েছে, যার মধ্যে সেরা চলচ্চিত্র, মূল স্ক্রিনপ্লে এবং সেরা পরিচালক (জশ সাফডি) অন্তর্ভুক্ত।
জোশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি টিমোথি চ্যালামেট এবং জাপানি টেবিল টেনিস খেলোয়াড়-অভিনেতা কোতো কাওগুচি (যিনি ছবিতে মার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী কোতো এন্ডো চরিত্রে অভিনয় করেন) এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ সেশন করেন। নিউ ইয়র্কে টিমোথির সঙ্গে একান্তে এক‑অন‑ওয়ান রিহার্সাল করার সুযোগ পেয়ে জোশ এই অভিজ্ঞতাকে “অসাধারণ” এবং “অবিশ্বাস্য” বলে বর্ণনা করেছেন।
জোশ বিবিসি নিউজে জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় টেবিল টেনিসের সূক্ষ্মতা বজায় রাখতে যে পরিমাণ প্রচেষ্টা করা হয়েছে তা টেবিল টেনিস জগতের সকলেরই প্রশংসা পাওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, টেবিল টেনিসের বাস্তবিকতা নিশ্চিত করতে ক্যামেরা সামনে প্রতিটি র্যালি ও শটের জন্য বিশদ প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে।
চিত্রে জোশকে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিযোগী হিসেবে দেখা যায়, পাশাপাশি ছবির অন্যান্য দৃশ্যে ছোট ছোট ভূমিকা পালন করেন। যদিও প্রথমে তিনি চূড়ান্ত কাটে তার নাম থাকবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন, তবে বড় স্ক্রিনে নিজের মুখ দেখতে পেয়ে তিনি “বিলকুল অবাস্তব” অনুভব করেছেন।
শুটিং শেষ হওয়ার পর জোশের মুখ বড় পর্দায় উন্মোচিত হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে সন্দেহে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে দর্শকদের সামনে প্রকাশ পায়, যা তার জন্য একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
চলচ্চিত্রের সাফল্য এবং বাফ্টা অ্যাওয়ার্ডসের দিকে এগিয়ে যাওয়া এই অপ্রত্যাশিত সুযোগকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। টিমোথি চ্যালামেটের সঙ্গে কাজ করার সময় জোশের প্রশিক্ষণ সেশনগুলো তাকে পেশাদার স্তরে টেবিল টেনিসের কৌশল শিখতে সহায়তা করেছে, যা ছবির রিয়েলিজম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জোশের এই অনন্য যাত্রা, শোবার ঘরের জুম কল থেকে শুরু হয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের বড় স্ক্রিনে শেষ হওয়া, অর্ধ‑প্রফেশনাল ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার অভিজ্ঞতা দেখায় যে সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগে হাত বাড়ালে অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, “মার্টি সুপ্রিম” শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী থিয়েটারগুলোতে প্রদর্শিত হবে, এবং বাফ্টা অ্যাওয়ার্ডসের ফলাফল চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জোশ বেনেটের জন্য এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি অভিনয় নয়, বরং টেবিল টেনিসের প্রতি তার ভালোবাসা ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।



