পিক্সার টয় স্টোরি সিরিজের নতুন অংশ, টয় স্টোরি ৫, এর ট্রেইলার সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ট্রেইলারে দেখা যায় বোনি নামের ছোট মেয়ে একটি এআই চালিত ট্যাবলেট লিলিপ্যাডের সঙ্গে মুখোমুখি হচ্ছে, যা তার খেলনা বন্ধুদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। এই নতুন গল্পে পুরনো খেলনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে।
১৯৯৫ সালে প্রথম টয় স্টোরি চলচ্চিত্রের মুক্তির সময় গুগল এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, আর অ্যাপলও দেউলিয়া হবার কিনারায় ছিল। সেই সময়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশ আজকের ডিজিটাল যুগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তবু পিক্সার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সিরিজকে চালিয়ে আসছে।
পিক্সার এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে টয় স্টোরি ব্র্যান্ডটি প্রজন্মের পরিবর্তন সত্ত্বেও জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে। প্রথম চলচ্চিত্রের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়টি অংশ তৈরি হয়েছে, এবং নতুন অংশে প্রযুক্তি-নির্ভর থিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ট্রেইলারে বোনি, যিনি টয় স্টোরি ২-এ অ্যান্ডির খেলনা উত্তরাধিকারী, তার বাগানে খেলতে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত প্যাকেজ পায়। প্যাকেজের মধ্যে লিলিপ্যাড নামে একটি ট্যাবলেট রয়েছে, যা সে তৎক্ষণাৎ চালু করে। ট্যাবলেটের উজ্জ্বল স্ক্রিনে সে মুগ্ধ হয়ে যায় এবং চারপাশের খেলনা ও পরিবেশের দিকে মনোযোগ দেয় না।
বোনির বাবা-মা স্ক্রিন টাইম শেষ হয়েছে বলে তাকে সতর্ক করে, কিন্তু সে স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে অস্বীকার করে। তার মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে লিলিপ্যাডের গেম ও অ্যানিমেশনে কেন্দ্রীভূত থাকে। এই দৃশ্যটি আধুনিক শিশুরা কীভাবে ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি আকৃষ্ট হয় তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ট্রেইলারের কেন্দ্রীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে লিলিপ্যাডকে এক ধরণের দুষ্ট এআই ট্যাবলেট হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। ট্যাবলেটটি কেবল বিনোদন সরবরাহ করে না, বরং বোনির মনোভাব ও আচরণকে প্রভাবিত করে। এর উপস্থিতি পুরনো খেলনা চরিত্রদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে।
বোনির খেলনা জেসি লিলিপ্যাডের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে তার নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে থাকে। লিলিপ্যাড শীতল স্বরে জানায় যে সে সর্বদা সক্রিয়ভাবে শোনে এবং একই বার্তাটি স্প্যানিশে অনুবাদ করে শোনায়। এই প্রতিক্রিয়া ট্যাবলেটের সর্বদা সক্রিয় শোনার ক্ষমতা ও অ্যালগরিদমের ইঙ্গিত দেয়।
জেসি এই পরিস্থিতি নিয়ে ওডিকে জানায় যে প্রযুক্তি ঘরে প্রবেশ করেছে এবং বোনিকে ডিভাইসের দিকে টেনে নিচ্ছে। ওডি উত্তর দেন, “খেলনা খেলতে, প্রযুক্তি সবকিছুতে”—যা পুরনো ও নতুনের মধ্যে দ্বন্দ্বকে সংক্ষেপে প্রকাশ করে। এই সংলাপটি স্ক্রিন টাইমের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগকে তুলে ধরে।
ট্রেইলারে মিসেস পটেটো হেড, রেক্স, স্লিঙ্কি ডগের মতো ক্লাসিক চরিত্রগুলোও উপস্থিত রয়েছে। তারা লিলিপ্যাডের হুমকির মুখে একসাথে দাঁড়িয়ে পুরনো খেলনার মূল্যকে পুনরায় জোর দেয়। এই দৃশ্যগুলো দর্শকদের নস্টালজিয়া জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
টয় স্টোরি ৫ সম্ভবত ছোট শিশুদের স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করবে, যদিও তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়। গল্পের কাঠামো ও ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো ডিজিটাল ডিভাইসের আকর্ষণ ও ঝুঁকি উভয়ই তুলে ধরে। ফলে বাবা-মা এই চলচ্চিত্রটি দেখার সময় আলোচনার সুযোগ পেতে পারেন।
বাজারে বর্তমানে সি-কোমেলন মতো শিশুদের জন্য ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রচুর, তবে টয় স্টোরি ৫ একটি ভিন্ন ধরণের বিনোদন প্রদান করে। এটি শুধুমাত্র রঙিন অ্যানিমেশন নয়, বরং সামাজিক বার্তা বহন করে, যা পিতামাতার জন্য মূল্যবান হতে পারে।
টয় স্টোরি ৫ এর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মুক্তি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ট্রেইলারের প্রকাশ ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। পিক্সার এই নতুন অংশটি পুরনো ও নতুন প্রজন্মের সংযোগের একটি সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে। দর্শকরা আশা করছেন যে এই গল্পটি প্রযুক্তি ও মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবে।



